সতীপীঠ গুহ্যেশ্বরী

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সতীপীঠ গুহ্যেশ্বরী। হিন্দু ভক্তদের জন্য এটি একটি পবিত্র তীর্থস্থান। জানা যায়, এখানে দেবীর দুটি হাঁটু পড়েছিল। দেবী এখানে মহাশিরা নামে পূজিতা হন। দেবীর ভৈরবের হলেন কপালী। এই মন্দির গুহ্যেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত।

নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র মন্দিরগুলির মধ্যে একটি হল এই গুহ্যেশ্বরী মন্দির। এটি আদিশক্তি বা মহাশক্তির মন্দির। এই সতীপীঠটি পশুপতিনাথ মন্দিরের কাছেই অবস্থিত। জানা যায়, গুহ্যেশ্বরী মন্দিরটি বাগমতী নদীর তীরে এবং পশুপতিনাথ মন্দিরের প্রায় ১ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

কথিত আছে, গুহ্যেশ্বরী মন্দিরটি পশুপতিনাথ মন্দিরের শক্তি। মন্দিরের দেবী গুহ্যকালী নামেও পরিচিতা। এটি গুহ্যেশ্বরী দেবীর প্রধান মন্দির। হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষত তান্ত্রিকদের কাছে মন্দিরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।

জানা যায়, ১৭শ শতকে রাজা প্রতাপ মল্ল মন্দিরটি তৈরি করান।গুহ্যেশ্বরী মন্দিরটি যেখানে অবস্থিত, সেখানে দেবীর যোনি পড়েছিল বলা হয় আবার মতান্তরে বলা দেবীর দুই হাঁটু এখানে পড়েছিল।

গুহ্য শব্দের অর্থ ‘যোনি’ আর ঈশ্বরী হলেন ‘দেবী’। মন্দিরের মধ্যে একটি কলসে পূজিত হন দেবী। কলসটি স্বর্ণ ও রৌপ্য এর স্তর দ্বারা আবৃত।

মূল মন্দিরটি একটি খোলা প্রাঙ্গণের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মন্দিরের চূড়ায় চারটি সোনালি সর্প আছে যা বিবিধ কারুকাজের ভিত্তি হয়ে রয়েছে।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সতীপীঠের মন্দিরগুলিতে শক্তি বা আদিশক্তি বিরাজ করেন। প্রত্যেকটি পীঠস্থানে শক্তি ও ভৈরবের পৃথক মন্দির থাকে। গুহ্যেশ্বরী মন্দিরের শক্তি হলেন ‘মহাশিরা’ আর ভৈরব হলেন ‘কাপালী’।

এই মন্দিরটি তান্ত্রিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে বিবিধ তান্ত্রিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।

কালীতন্ত্র, চণ্ডীতন্ত্র ও শিবতন্ত্ররহস্য গ্রন্থে গুহ্যেশ্বরী মন্দিরটিকে তন্ত্রশক্তি লাভের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিজয়া দশমী ও নবরাত্রির সময় ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমে ভরে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গন।