সতীপীঠ অমরকণ্টক বা শোনমূঢ়া

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাদেবের তান্ডব নৃত্য করার সময়ে শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খন্ড বিখন্ড হয়ে যায় সতীর দেহ এবং সতীর দেহ খন্ডগুলি যেখানে পড়ে সেখানেই তৈরি হয় এক একটি সতীপীঠ।মধ্যপ্রদেশের শোন নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত সতীপীঠ অমরকণ্টক বা শোনমূঢ়া।

সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম এই পীঠ।শোন নদীর উত্‍পত্তিস্থলে গড়ে উঠেছে দেবী শোনাক্ষীর মন্দির।
কথিত আছে, শোনমূঢ়ায় দেবীর বাম নিতম্ব পড়েছিল।  যেখানে সতী, সেখানেই শিব। শোনাক্ষী দেবীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শিবলিঙ্গ। শঙ্কর এখানে মহাকাল ভদ্রসেন নামে পূজিত হন।

গোটা অমরকন্টক মন্দিরময়। সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হল এই মা নর্মদার মন্দির। বহু প্রাচীন বিন্ধ্য পর্বতমালার একটি শৃঙ্গ হল অমরকণ্টক। এখন থেকেই পৌরাণিক নদী নর্মদার যাত্রা শুরু।শাক্ত গ্রন্থ অনুযায়ী, চণ্ডিকা পীঠ নামে খ্যাত। গঙ্গা উপাসনার নদী, সরস্বতী জ্ঞানের নদী, নর্মদা তপস্যার নদী। জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিবের তপস্যাই সাক্ষাত্‍ নর্মদা হিসেবে উঠে এসেছে।

শত শত বছর ধরে কুণ্ডে উঠে আসা জল বেরনোর জন্য রয়েছে একটি নালার সংযোগ। নালার নাম গোমুখনালা। গোমুখনালার ভিতর দিয়ে নর্মদা এসে পড়েছে কোটি তীর্থে।পুরাণ অনুযায়ী, শিব বিষ পান করার পর বিষেয় জ্বালায় ছটফট করতে করতে অমরকণ্টকে পৌঁছালে তাঁর জ্বালা জুড়োয়। তিনি দেখেন সবাই ধ্যান করছে। শিবও ৫ হাজার বছর ধ্যানে বসলেন। গলার ঘাম থেকে সৃষ্টি হল নর্মদার। মহাদেব চোখ খুলে তাঁকে দেখে প্রসন্ন হন। তাই জনশ্রুতি যে, স্বয়ং মহাদেবের তপস্যার ফলই হল নর্মদা। এই সতীপীঠের মাহাত্ম্য অনেক।

কথিত আছে, নর্মদার উত্‍সমুখের সন্ধান পান মরাঠা রাজা প্রথম বাজীরাও। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বিশেষ পরিচিতি পায় এই তীর্থস্থান।পুরাণ মতে, নারদ, বশিষ্ঠ, কপিল, ভৃগু, দুর্বাসার মতো মহান মুনি ঋষিরাও তপস্যা করেছেন নর্মদা তীর্থ অমরকণ্টকে।

সমস্ত নদীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল নর্মদা। আর অমরকণ্টক হল একাধারে শৈব পীঠ, তন্ত্র পীঠ ও অঘোর পীঠ। তপস্যার উত্তম ভূমি নর্মদা তট। এখানে তপস্যা করলে, অন্য যে কোনও স্থানে তপস্যার চেয়ে অধিক ও দ্রুত ফল লাভ হয় বলে মনে করা হয়।নর্মদা মন্দির থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোনমূঢ়া। এখানে শোন নদীর উত্‍পত্তিস্থলে গড়ে উঠেছে দেবী শোনাক্ষীর মন্দির, যা একান্ন সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম পীঠ।

এম/বি