Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বাগবাজারে আগুনের পরেই জমি হাঙরের কথা তুললেন সাধন, কাকে নিশানা মন্ত্রীর?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বুধবার রাতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বাগবাজারের বস্তি। শয়ে শয়ে মানুষ ঘরছাড়া। মুখ্যমন্ত্রী আজ সকালে গিয়েছেন ঘটনাস্থলে। গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। রাত থেকেই সেখানে রয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মন্ত্রীরা। স্থানীয় কাউন্সিলর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দাঁড়িয়েছে সব হারানো মানুষদের পাশে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ইঙ্গিত করেছেন কেউ ইচ্ছা করে সেখানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে নির্মাণ কাজ করার জন্য। কিন্তু রাজ্য সরকারের প্রবীণ মন্ত্রী সাধন পান্ডে আগুন লাগার বিষয়টি নিয়ে যেভাবে বেসুরো কথা বললেন কার্যত বিরোধী নেতা- নেত্রীদের মতো, সেটা নিয়ে যথারীতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সাধন পান্ডে বলেন, কেন আগুন লাগল তার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনকে শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে। তবেই ভরসা পাবে মানুষরা। মনে রাখবেন চারদিকে জমি হাঙররা ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি ঠিকভাবে হাল না ধরে, তবে সমস্যা মিটবে না। তাই প্রশ্ন উঠছে, জমি হাঙরের কথা বলে সাধন পান্ডে কি এই অভিযোগ করছেন যে, ওখানে আগুন ইচ্ছা করে কেউ লাগিয়ে দিয়েছে? বিশাল আকারের হাউজিং কমপ্লেক্স করার জন্যই কি বস্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটা খালি করার জন্য? মন্ত্রীর কথায় এমন চর্চা কিন্তু শুরু হয়েছে ওই এলাকায়। এমনিতেই গোটা ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বস্তির বাসিন্দারা।

আরো পড়ুন : মাঝি ভাই নদীর ধারে ধারে নিয়ে চলো পাবলিকের কাছে কাছে, নৌকা থেকে সৌমিত্র খাঁ কী বললেন?

আগুন লাগার দীর্ঘ সময় পরে সেখানে দমকল গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাই এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্য সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যদি এমন কথা বলেন, তখন সেটা নিয়ে তো আলোচনা চলবেই। এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন কথা বলে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন সাধন। দুয়ারের সরকার কর্মসূচি উপলক্ষে নিজের দলের বিবদমান গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন মন্ত্রী। সাধন পান্ডে মানিকতলার বিধায়ক। তাঁর এলাকার লাগোয়া কেন্দ্র বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের সঙ্গে তাঁর খারাপ সম্পর্কের কথা সবাই জানেন। নাম না করে একে অপরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।

সাধনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই এত বড় আকারের আগুন লাগার ঘটনার পর সাধন পান্ডে যেভাবে বিষয়টি নিয়ে কারুর দিকে ইঙ্গিত করতে চাইছেন, তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে। কিন্তু তৃণমূলে বেসুরো নেতা-মন্ত্রীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সেই অস্বস্তি নতুন করে বাড়ালেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে। যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাধন পান্ডের বক্তব্য নিয়ে কিছু বলেননি। তবে তিনি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রাজনীতি করার জন্য বিজেপি এসব কথা বলছে। এগুলো একেবারেই কাম্য নয়। তবে রীতিমতো বিরোধীদের ঢঙে যেভাবে সাধন আজ বেসুরো গাইলেন, তাতে উল্লসিত গেরুয়া শিবির। তৃণমূল ছেড়ে আগামী দিনের সাধন পান্ডে বিজেপিতে যোগ দেবেন, এমন একটা জল্পনা বহুদিন ধরে চলছে। এদিন মন্ত্রীর কথায় সেই জল্পনা নিঃসন্দেহে আরো বেড়ে গেল।