চট্টগ্রামে বেড়েই চলেছে চালের দাম

1 min read

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

চট্টগ্রামে বেড়েই চলেছে চালের দাম। কোরবানি ঈদের পর থেকে নগরীর পাইকারি চালের বাজার অস্থিরশীল। হঠাৎ চালের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে কেজিপ্রতি বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় টাকা। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা, বেশি দামে সরকারের ধান–চাল সংগ্রহ এবং চাল আমদানি শুল্ক বাড়তি থাকার কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে দায়ী করেছে ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নগরীর চালের বৃহত্তম পাইকারি বাজার পাহাড়তলী ও চাক্তাই ঘুরে দেখা গেছে, স্বর্ণা সিদ্ধ ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৬০ থেকে ২ হাজার ২৬৫ টাকায়। কোরবানি ঈদের আগে এই চালের দাম ছিল দুই হাজার টাকার নিচে। বেতি আতপ ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকায়। দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। নাজিরশাইল সিদ্ধ ২৫ কেজির বস্তা কোরবানির ঈদের আগে ১ হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৮০ টাকায়।

মিনিকেট আতপ ২৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। দিনাজপুরী পাইজাম ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা সিদ্ধ চাল যেটা ১ হাজার ৬০০-১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটাও ২০০ টাকা বেড়েছে। চিনিগুড়া চালের বস্তা ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে এর দাম বাড়েনি। পাইকারি বাজারের প্রভাবে খুচরা বাজারে বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা দরে।

চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. জামাল বলেন, বন্যার কারণে গত সপ্তাহে চালের দাম বেড়েছে। তবে আজ থেকে কেজিপ্রতি দুই-তিন টাকা কমেছে। এখন চালের বাজার স্থিতিশীল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, সরকার ধান–চাল মজুদ করার কারণে চালের দাম বাড়ছে। সরকার ধান–চাল কেনা বন্ধ করলে চালের দাম কমে যাবে। এছাড়া অনেকদিন ধরে চালে আমদানি শুল্ক বাড়তি। সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিলে তাহলে আমদানিকারকরা চাল আমদানি করবে। তখন চালের দাম স্বাভাবিক থাকবে।

তবে বৃহত্তম পাইকারি বাজার পাহাড়তলী, চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের চালপট্টিতে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল মজুদ আছে।

সাধারণ মানুষ বলছে, চালকল মালিক ও পাইকারি বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই বাড়তি দামে চাল বিক্রি শুরু করেছে। এখন বন্যার অজুহাতে আরেক দফা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, মোটা চালের দাম এখন গত বছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি। গত বোরো মৌসুমে প্রায় ২ কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। চলতি বছর আমন ওঠার আগ পর্যন্ত দেশে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে বলে দাবি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের। এখন সরকারের কাছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন চাল মজুদ আছে।

চাক্তাই রাইচ মিল সমিতির সভাপতি শান্ত দাশগুপ্ত বলেন, বেশিভাগ চাল আসে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গ থেকে। সেসব অঞ্চলে এখন বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে ধানের দাম বাড়াতে চালের দামও বেড়েছে। এছাড়া সরকার ধান-চাল সংগ্রহ করায় চালের দাম বাড়ছে। বর্তমানে চাল আমদানি শুল্ক ৬৫ শতাংশ। যার কারণে এখন বিদেশ থেকে চাল আমদানি হচ্ছে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চালের দাম বৃদ্ধি যাচাই করতে খাতুনগঞ্জের চালপট্টিতে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বেশি দামে চাল বিক্রি, মূল্যতালিকা না টাঙানো এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে চার জন চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে চালের দাম না বাড়ানোর জন্য তাদের সতর্ক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ব্যবসায়ীরা চিনিগুড়া চাল ২২০০ টাকা, জিরাশাইল চাল ২৪৫০ টাকা, বালাম সিদ্ধ চাল ১৮০০ টাকা, পাইজাম চাল (২৫ কেজি বস্তা) ১১০০ টাকায় কিনে বিক্রি ১১৫০ টাকা, দেশি বেতি চাল ১৮৫০ টাকায় কিনে ১৯০০ টাকায় বিক্রি ও ইরি আতপ চাল (৫০ কেজি বস্তা) ১৭৯০ টাকায় কিনে ১৮২০ টাকায় বিক্রির দাবি করলেও বাজারে দাম এর চেয়েও বেশি।