প্রতারণা করেছে রিজেন্ট হাসপাতাল, দাবি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

1 min read

।। ফাইজা রাফা, বাংলাদেশ ।।

করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা হয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল । হাসপাতালটি প্রতারণা করেছে বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর বলেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সাহেদ করিমের বিষয়ে আগে অবহিত ছিল না।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ব্যাখ্যা দিয়ে এ দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার বিষয়ে কিছু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সাহেদ করিমের বিভিন্ন প্রতারণার খবরও বেরিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তার বিষয়ে আগে অবহিত ছিল না। এ বছরের মার্চে আকস্মিকভাবে দেশে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।

কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগী ভর্তি করতে চাইছিল না। আবার অনেক রোগীর পছন্দ থাকত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক। এমন সময় রিজেন্ট হাসপাতাল ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরের দুটি ক্লিনিককে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ডেডিকেটেড করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এর পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়।

তবে ক্লিনিক দুটি পরিদর্শনের সময় চিকিৎসার পরিবেশ উপযুক্ত দেখতে পেলেও ক্লিনিক দুটির লাইসেন্স নবায়ন ছিল না। বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টির মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অপর বেসরকারি হাসপাতালেগুলোকেও উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে ২১ মার্চ সমঝোতা স্মারক।

২১ মার্চ সমঝোতা স্মারক সই করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারক সই করার আগে পরিচয় থাকা তো দূরের কথা, টক শো ছাড়া কখনো মো. সাহেদ করিমকে দেখেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর মো. সাহেদ বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছিলেন। এ সময় মো. সাহেদ তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির যোগাযোগ আছে এবং তাঁর ক্লিনিকগুলোতে কোন কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির কোভিড আক্রান্ত আত্মীয় ভর্তি আছেন, সেসব কথা বলার চেষ্টা করতেন।

গোয়েন্দা ও অন্যান্য সূত্রে রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে কিছু অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গোচরে এসেছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জুলাই আকস্মিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে র‌্যাব যৌথ অভিযান চালায়। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান পরিষ্কার।

একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতারিত হয়েছে এবং ৭ জুলাই আইনানুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সমঝোতা স্মারকের আর কোনো মূল্য নেই। এ প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা আইনের অধীনে যথাযথ শাস্তি পাবে বলে প্রত্যাশা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এবং নিজস্ব উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝটিকা পরিদর্শন কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে, যা চলমান থাকবে  এবং অব্যাহত থাকবে।