Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

বুধবার রামনবমী, একুশের লক্ষ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা উচ্চগ্রামে নিতে প্রস্তুত বিজেপি

||প্রথম কলকাতা ||

রামনবমী উৎসব নিয়ে কয়েক বছর আগেও রাজ্যবাসীর তেমন উৎসাহ ছিল না। গুটি কয়েক জায়গায় রামনবমী পালন করা হতো ঘটা করে। কিন্তু অবস্থার বদল হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিকে স্পর্শ করেছে রামনবমী। একুশের নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ অত্যন্ত প্রকট। রামের নামে ভোট হচ্ছে বাংলায়, এটা কয়েক বছর আগেও ভাবা যেত না। কিন্তু এটাই এখন ঘোর বাস্তব। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রামনবমী নিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বিজেপি।

করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে উত্তরপ্রদেশ সরকার রামনবমী মেলা এই বছর বাতিল করেছে। বাংলায় রামনবমীর সার্বিক প্রচলন ছিল না। কিন্তু একুশের নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার রামনবমী অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে বিজেপি নেতাদের কাছে। রবিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নিউটাউনের ইকো পার্কে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ একটি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ” রাম নবমীতে পতাকা লাগাব কার অনুমতি নিতে হবে? অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হচ্ছে। গোটা দেশ দেখছে।” অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে এবার রামনবমী সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। গতবছর করোনা কালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে রামমন্দিরের শিলান্যাস হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনলে রেগে যান, তখন থেকে এই কটাক্ষ আরও বেশিমাত্রায় করছে বিজেপি।

একুশের নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে এসেছে, ততই রামচন্দ্র প্রাসঙ্গিক হয়েছেন রাজ্য রাজনীতিতে। হিন্দুরা রামচন্দ্রকে ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার হিসেবে পুজো করেন। হিন্দি বলয়ে প্রতি বছর রামনবমীকে ঘিরে হিন্দুদের গণ উন্মাদনা দেখা যায়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার প্রভৃতি রাজ্যে এটা অতি পরিচিত দৃশ্য। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবির শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে রামচন্দ্রকে নিয়ে আবেগ সঞ্চার হতে শুরু করে। তাই বুধবার রামনবমীর দিকে রাজনীতি সচেতন মানুষের অবশ্যই চোখ থাকবে। ৭০ ও ৩০ এর ভোটবিন্যাস নিয়ে বহুদিন ধরেই চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ধর্মীয় উন্মাদনা জাগিয়ে তুলতে বিজেপির বড় হাতিয়ার হতে চলেছে বুধবারের রামনবমী। করোনা বিধি মেনে সেদিন রামনবমী কীভাবে পালিত হয়, রাজ্য বিজেপি নেতাদের সেদিন কি কর্মসূচি থাকে, সেদিকেই চোখ থাকবে সবার।