Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

জনসভা, মিছিল থেকে বাড়ি বাড়ি প্রচারে ব্যাপক সাড়া, ডোমজুড়ে আশাবাদী রাজীব

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পর যে বিধানসভা কেন্দ্রটিকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে সেটি হাওড়ার ডোমজুড় কেন্দ্র। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পর এখান থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তারপর থেকেই নজিরবিহীন আক্রমণ করেছেন তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত সরব হয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে। গদ্দার, মীরজাফর, বিশ্বাসঘাতক প্রভৃতি শব্দ বারবার শুনতে হয়েছে তাঁকে। আয়রে রাজীব খেলবি আয়, ডোমজুড়েতে খেলতে আয়, এমনভাবে তাঁকে নিশানা করেছেন কল্যাণ।

প্রচারে বের হয়ে বহুবার তৃণমূল সমর্থকদের বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কখনও জুতো ছোড়া হয়েছে, কখনও রাজীবের পোস্টারে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তিনি। সেদিন সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন। অভিযোগ রাজীবকে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি সেদিন। কিন্তু এরপরেও তাঁর আত্মবিশ্বাসে সামান্যতম চিড় ধরেনি।

ডুমুরজলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভা করেছেন। আজ বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ডোমজুড়ে রোড শো করেছেন। এসেছেন অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু ডোমজুড়ে বিজেপির প্রধান ভরসা স্বয়ং রাজীবই। এখানে প্রতীক নয়, প্রার্থী বড়। তাই গত দু’মাস ধরে মিটিং-মিছিলের পাশাপাশি তিনি সবচেয়ে জোর দিয়েছেন বাড়ি বাড়ি প্রচারের ওপর।

কখনও বয়স্কদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছেন, আবার বাচ্চাদের কোলে তুলে নিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা তৃণমূল যখন তাঁর বিরুদ্ধে কু-কথার ঝড় বইয়ে দিয়েছে, তখনও একটিও খারাপ শব্দ ব্যবহার করেননি তিনি। এটাই তাঁর রাজনৈতিক ইউএসপি। রাজীব ঘনিষ্ঠদের দাবি, নির্দল হয়ে দাঁড়ালেও এখান থেকে তিনি জিতবেন। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোটের একটা বড় অংশ তাঁর দিকে চলে আসবে। যদিও রাজীব এই সম্পর্কে একটি কথাও বলেননি।

আরো পড়ুন : তৃতীয় দফার ভোটে কোন কেন্দ্রে কত ভোট?

নির্বাচনে প্রতিটি দলের প্রার্থীরা জনসংযোগ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজীবের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই অন্যরকম। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বহুদিন ধরেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ছিলেন। তার একটি উল্লেখযোগ্য হল নিখরচায় ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনের ব্যবস্থা করা। রাজীবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এরকম পড়াশোনার সেন্টার চলে ডোমজুড়ের বেশ কয়েকটি জায়গায়। এলাকার মানুষ মনে করেন, শুধুমাত্র ভোটের টানে নয়, সমাজ গঠনে তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাই দশ বছর আগে এই কেন্দ্রে প্রথম জেতার পর থেকেই রাজীব সবার ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছেন। পুরনো দলে থাকার সময় হাওড়া জেলা তৃণমূল রাজনীতিতে তিনি অরূপ রায়ের বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তখন বারবার তিনি দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন সেই অংশের বিরুদ্ধে। তাই রাজীবের প্রচারে উঠে এসেছে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতিহীন সমাজ, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা। রাজীব একাধিক জায়গায় বলেছেন, ” সবাই হয়ত সরকারি চাকরি পাবেন না। কিন্তু সবাই যাতে চাকরি পান সেই পরিস্থিতি গড়ে তুলতে হবে। আর সেটাই আমরা করব বিজেপি ক্ষমতায় এলে”।

অর্থাৎ ভোটের লক্ষ্যে শুধুমাত্র একগুচ্ছ গালভরা প্রতিশ্রুতি তিনি প্রচারে দেননি। ছোট ছোট পথসভা করে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। অনেক জায়গায় তৃণমূলের চোখরাঙানিতে মানুষ ইচ্ছা থাকলেও যোগ দেননি রাজীবের কর্মসূচিতে, এমন অভিযোগ ডোমজুড়ে কান পাতলেই শোনা যায়। শনিবার সেখানে নির্বাচন। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হচ্ছে প্রচার কর্মসূচি। শেষ লগ্নে রোড শো করে ডোমজুড়ে ঝড় তুলে দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই রাজীব অনেকটাই নিশ্চিন্ত ডোমজুড়ে জেতার ব্যাপারে।