সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসভা-মিছিল-পাল্টা মিছিল

।। প্রথম কলকাতা ।।

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কার্যকলাপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচুর পরিমাণে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে।

দলের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে শুরু করে রাজ্যের শাসক তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে একাধিক কর্মসূচি আন্দোলন সম্বন্ধে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাদের বক্তব্য জানানো শুরু করেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়াকে গঠনমূলকভাবে ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কে ব্যবহার করে রাজ্যজুড়ে এক ধরনের অশান্তি তৈরি করার যে চেষ্টা হচ্ছে সেই বিষয়টিও সামনে উঠে এসেছে।

যারা এই ধরনের অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন টাকা দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে। মিথ্যা কথা লিখে দাঙ্গা ছড়াচ্ছে। মানসিক সন্ত্রাস চলছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিথ্যা কথা লিখে এই ধরনের গন্ডগোল ছড়ানো হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বিষয়ে তিনি আইসি,এসপি প্রত্যেককে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। মমতার কথায় ৫০ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ টাকা দিয়ে তৈরি করেছে কেউ কেউ। সেখানে ফেক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ভুয়ো খবর ছড়িয়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে কোনো আপত্তি নেই। আজকের দিনে যতই ভাল কাজ করুন মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এই মানসিক সন্ত্রাস শারীরিক সন্ত্রাসের থেকেও ভয়ঙ্কর। এটা রুখতে হবে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য পেশ করছে। বিজেপি দেশজুড়ে আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে তাদের কর্মসূচি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় বৈঠক থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি সবকিছুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু করেছেন। সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছেই এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।