চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯ চা বাগানে উৎপাদন পিছিয়েছে

1 min read

।। চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ ।।

চলতি চা মওসুমের শুরুতে খরার ফলে যে উৎপাদন মার খেয়েছিল তা কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা কম। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯টি বাগান বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

গত বছরে বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল বাগান নির্বাহিদের। প্রথমদিকে আবহাওয়া ছিল ভাল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তাতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল চা শিল্পের জন্য। গাছসমূহ ছিল স্বাস্থ্যবান। মার্চের প্রথমদিকে প্লাকিং শুরু হয়। অধিক পরিমাণে পাতা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খরার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে উৎপাদনে। অনাবৃষ্টি মারাত্মক সংকটে ফেলে বাগানসমূহকে। যে কয়েকটি বাগানে নিজস্ব সেচ ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলো কোনোরকমে এগিয়ে যায়। অন্যান্য বাগান উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২১ টি বাগানে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে উৎপাদিত চায়ের পরিমান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৫৬ শতাংশ কম। গত বছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ কেজি। এ বছরে উৎপাদিত হয়েছে ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ কেজি। তা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০৩ কেজি কম।

১০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় কোন কোন বাগান পিছিয়ে পড়েছে ৬৮ শতাংশ।অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় কমেছে ৪.৫৬ শতাংশ। তবে জুলাই মাসে কিছুটা ভাল ।

জুলাইতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লাখ ১হাজার ৮৫৮ কেজি। পাওয়া গেছে ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮১কেজি। গত বছরের জুলাইয়ে তা ছিল ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৩ কেজি।গত বছরে জুলাই পর্যন্ত মোট পাতা পাওয়া গিয়েছিল ৪৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ কেজি। এবারে তা ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ৭২৭ কেজি।

আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম বাগান কর্ণফুলী টি এস্টেট উৎপাদন পিছিয়ে আছে প্রায় ১১.৩৮শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট উৎপাদন ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭৪ কেজি। গত বছরে একই সময়ে তা ছিল ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৩ কেজি।পিছিয়ে আছে বারমাসিয়া টি এস্টেট। গত বছরের তুলনায় তা ৫৪.৪৯ শতাংশ। গত বছর জুলাই শেষে তাদের মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩০৬ কেজি। এবারে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৯০ কেজি।

প্রায় ৬৭.৮৩ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে এলাহি নূর টি এস্টেট। জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৮৬১ কেজি উৎপাদন হয়েছে। গত বছর একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ কেজি।পঞ্চবটি টি এস্টেট গত বছরে যেখানে জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৮ কেজি উৎপাদন করে, সেখানে এবারে তা ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫৭কেজি। অর্থাৎ প্রায় ১৪.৭২ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।

হালদাভ্যালি এবং রামগড় টি এস্টেট নিজস্ব সেচব্যবস্থা থাকায় অগ্রগতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।রামগড় টি এস্টেটে জুলাই পর্যন্ত মোট উৎপাদন ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৬ কেজি। একই সময়ে গত বছরে ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬২ কেজি। ১৩.৬৭ শতাংশ বেশি গত বছরের তুলনায়। হালদা ভ্যালিও এগিয়ে আছে। পরিমাণ প্রায় ৫.১৮ শতাংশ। গত বছরের ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৯ কেজির বিপরীতে এবারে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৩৩১ কেজি।