Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

অভিমান ! আর ভোটে দাঁড়াতে চান না এই নেতা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রতিটি নির্বাচনে দেখা যায় প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই তদ্বির করছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। কেউ টিকিট পান, কেউ আবার পান না। টিকিট না পাওয়া নেতা-নেত্রীরা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, এমন ঘটনাও বহুবার দেখা গিয়েছে। আবার অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তেমনই একজন হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল মান্নান।

হুগলির চাঁপদানি থেকে বহুবার কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছেন তিনি। গত বিধানসভা নির্বাচনে ফের জয়ের পর কংগ্রেস বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ তাঁকে দিতে দু’বার ভাবেনি। কিন্তু সামনের নির্বাচনে মান্নান সাহেব দাঁড়াতে চাইছেন না। আসলে প্রদেশ কংগ্রেসে গোষ্ঠীকোন্দল এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বেজায় অসন্তুষ্ট তিনি। সেই কারণেই ভোটে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিষয়টা তিনি এখনও হাইকমান্ডকে জানাননি। তাই আব্দুল মান্নানের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নির্বাচনে না দাঁড়ালে, সেটা অবশ্যই অন্যতম চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে। আর কার্যক্ষেত্রে হয়েছেও তাই।

সোমেন মিত্রের প্রয়াণের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হয়েছেন অধীর চৌধুরী। অধীরের হয়ে হাইকমান্ডের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন মান্নার। কিন্তু কংগ্রেস সূত্রের খবর, বর্তমানে অধীর অনুগামীরা মান্নানকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কার্যত তিনি অপমানিত হচ্ছেন, এমনটাই জানাচ্ছেন মান্নানের ঘনিষ্ঠ মহল। হুগলি জেলায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মান্নানের মতামত নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। বেশ কিছুদিন ধরে এমনটা চলছে বলে খবর। এরপরেই মান্নান ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না।

এ খবর জানার পর প্রদেশ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতানেত্রী মান্নানকে ফোন করেছিলেন। তিনি যাতে মত পরিবর্তন করেন সেই আবেদন করেন তাঁরা। তাতে কিছুটা হলেও মান্নান নরম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তিনি চাইছেন সমস্ত রকম গোষ্ঠীকোন্দলকে দূরে সরিয়ে রেখে, সিপিএম তথা বামেদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জোট করে কংগ্রেস যেন সামনের বিধানসভা নির্বাচনে ময়দানে নামে। সেই বার্তাই প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে তিনি দিয়েছেন। উল্লেখ্য রাজ্যের সাম্প্রতিক সমীকরণ বলছে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে মূল লড়াই হবে বিজেপির। সেখানে বাম, কংগ্রেস জোট কতটা ভালো ফল করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সেখানে মান্নানের মতো হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা ভোট ময়দানে না থাকলে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে নির্বাচনের বহু আগেই। কারণ বামেদের সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন আব্দুল মান্নান। ১৯৮২ সালে লালদুর্গ হুগলির আরামবাগে প্রথম জেতেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি চাঁপদানি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শুরু করেন। কংগ্রেসের জন্য অনেক স্বার্থত্যাগ করেছেন তিনি। রাজ্যসভা আসনের জন্য একটা সময় মান্নানের নাম মনোনীত হয়েছিল। কিন্তু পরে হাইকমান্ডের অনুরোধে তিনি সেখান থেকে সরে দাঁড়ান। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী তখন মান্নানকে বলেছিলেন, আপনি অনেক বড় ত্যাগ করলেন।

মান্নান প্রত্যুত্তরে সোনিয়াকে বলেন, আপনি আরো বড় স্বার্থত্যাগ করেছেন। আপনি ইচ্ছা করলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু আপনি তা করেননি। অর্থাৎ কংগ্রেসের সঙ্গে মান্নানের সম্পর্ক এই জায়গায় রয়েছে। সেটা এতটাই গভীর। তাই আব্দুল মান্নান কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল এর জন্য বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইছে না, এটা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক হবে সোনিয়াসহ রাজ্য কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মীদের। বিষয়টি নিয়ে এক কংগ্রেস নেতা বলেন, আমরা কথা বলছি। উনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন, সেটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

উল্লেখ্য কিছুদিন আগে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে আসেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা জিতিন প্রসাদ। হাইকমান্ড জিতিনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর সেই প্রথম বিধান ভবনে আসেন তিনি। কিন্তু সেখানে সোমেন মিত্রের অনুগামীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিযোগ ছিল দলে তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়াত সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্র একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধীর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে বিধান ভবনের কাজকর্ম যেভাবে চলছে তাতে ক্ষুব্ধ অনেকেই। মান্নানের বিষয়টি সামনে আসার পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কিভাবে তাতে হস্তক্ষেপ করেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।