রাজ‍্যে রাষ্ট্রপতি শাসন? দাবি বিজেপির

।। রাজীব ঘোষ ।।

বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয় বর্গীয়র নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিল পাঁচ সদস্যের বিজেপি প্রতিনিধিদল। রাষ্ট্রপতির কাছে হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যুর সিবিআই তদন্ত এবং বাংলায় ৩৫৬ জারির দাবি জানিয়েছিল। রাজ্যে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক সাংসদ এমনকি মন্ত্রী বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন এবং যোগাযোগ রাখছেন এই দাবি করেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

পুলিশ দিয়ে খুন করানো হতে পারে বা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে এই কারণে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিতে পারছেন না। এই মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার মাত্রই তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা বিজেপিতে যোগদান করবেন এই কথা বলেছেন কৈলাশ। তার কথায় হেমতাবাদ এর বিধায়ক এর মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন দুটোই চাই আমরা। পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের রাজনৈতিকীকরণ শুধু হয়নি অপরাধীকরন হয়ে গিয়েছে।

প্রশাসনকে দিয়ে যখন অপরাধমূলক কাজ করানো হয় তখন সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার থাকে না। এই প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন হলে নিরপেক্ষ হবে না। তাই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবে। তার এই মন্তব্যের অর্থ পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ জারি হচ্ছে ধরে নিয়ে বিজেপি রণকৌশল সাজাচ্ছে। কৈলাসের কথায় সব জেলায় প্রচুর তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে আসছেন। অনেক সাংসদ বিধায়ক তৃণমূলে যারা রয়েছেন তারাও বিজেপিতে যোগ দেবেন।

তবে বিজেপিতে যোগ দিলে তাদের নামে মামলা দেওয়া হবে এই ভয়ে অনেকে যোগ দিচ্ছেন না। যে মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে এই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে তখন অনেক নেতা বিধায়ক সাংসদ মন্ত্রীরা বিজেপিতে চলে আসবেন। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল ৩৫৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সরকার ফেলে দিলে নিজের পক্ষে সহানুভূতির হাওয়া তুলতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্য বিজেপির কয়েকজন নেতার মতে পশ্চিমবঙ্গে এখন যা পরিস্থিতি তাতে আর রাষ্ট্রপতি শাসন করে মমতাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবেনা। মমতার প্রস্থানের পথ এমনিতেই হয়ে গিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যদি না চাইতেন তাহলে বিজেপির প্রতিনিধি দল এই বিষয় নিয়ে তার অফিসে হাজির হতে পারত না। তারা শুধু রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছে।

এটা লক্ষ্য করার মতো বিষয় বলছেন এক সাংসদ। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করছে। সেটা অমিত শাহের সঙ্গে কৈলাশ বিজয় বর্গীয়, বাবুল সুপ্রিয়, স্বপন দাশগুপ্তদের সঙ্গে আলোচনায় বোঝা যাচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।