রাজনীতিতে প্রণব মুখোপাধ্যায়, জানার মধ্যে অজানা কথা! জানুন

1 min read

প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের এক ঝলক


।। সুদীপ মান্না ।।


সোমবার প্রয়াত হলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি ভারতের সবচেয়ে সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।


বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে কংগ্রেস রাজনীতির এক অধ্যায় সমাপ্ত হল। তিনিই শেষ কংগ্রেসি নেতা যিনি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।

বাংলায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ভিকে কৃষ্ণমেননের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে. যিনি মেদিনীপুরের উপ নির্বাচন জিতেছিলেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে।
ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে বাংলা কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে প্রথমবার রাজ্যসভায় নিয়ে আসেন। কংগ্রেস ছেড়ে ১৯৬৬তে বাংলা কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল, যা ১৯৭০এ আবার কংগ্রেসে মিশে যায়।


১৯৭৩এ তিনি প্রথমবার ইন্দিরা গান্ধী মন্ত্রীসভার সদস্য হন। তিনি তখন শিল্পোন্নয়ন দফতরের জুনিয়ার মন্ত্রী হন। ২ বছরের মধ্যেই তিনি রাজস্ব ও ব্যাঙ্কিং দফতরের স্বাধীন দায়িত্ব নিয়ে ডেপুটি মন্ত্রী হন।

ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি ১৯৮২তে অর্থমন্ত্রী মনোনীত হন। আইএমএফের ১.১ বিলিয়ন ডলারের ঋণের ইন্সটলমেন্ট ফিরিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি এনআরআই বিনিয়োগের জানালাও খুলে দেন। বিদেশি ফান্ডের ভারতে গন্তব্যের ক্ষেত্রেও তিনি দেশের ইমেজ বদলে দিয়েছিলেন।


ভারত-মার্কিন অসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতেও তাঁর বিরাট ভূমিকা ছিল।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রণববাবুর বড় ভূমিকা ছিল। যেমন প্রশাসনিক সংস্কার, তথ্যের অধিকার, চাকরির অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা, তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ, ইউআইডিএআই তারি ও মেট্রোরেল শুরু। এই সব ক্ষেত্রে তিনি ৯৫টিরও বেশি মন্ত্রীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ছিলেন।

তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে ছিল, আ্ঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির প্রতিষ্ঠা(১৯৭৫), এক্সিং ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ও ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার ও রুরাল ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠা(১৯৮১-৮২)।


২৩ বছর তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন, যেটি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি।


তিনি ৫ বার রাজ্যসভা ও ২ বার লোকসভার সদস্য হয়েছিলেন। তিনি ২০০৮ও পদ্মবিভূষণ সম্মান পেয়েছিলেন।


তীক্ষ্ণ স্মৃতি, চিন্তার স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন ইস্যুতে তাণর দখলের কারণে তিনি সেই বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি বিদেষ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রকের দায়ভার সামলেছেন। তিনি প্ল্যানিং কমিশনেরও ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন।


প্রণববাবু ১৯১২-১৭ দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতিরও দায়িত্ব সামলেছেন।