Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

দলের আচরণে ক্ষুব্ধ শিশির অধিকারী

1 min read

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।

শিশির অধিকারী রাজ্যের বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চরিত্র । কিন্তু এই বয়সে এসে তিনি দলের কাছ থেকে যা পেলেন সেটা কি তাঁর মতো একজনের জন্য সম্মানের? এই প্রশ্ন এখন রাজ্যরাজনীতির মূল আলোচনার বিষয়। শিশির অধিকারীর জন্ম এক স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারে। ১৯২৯ ও ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশেরা দুই বার তাদের বসতবাড়ি ভষ্মীভূত করে দিয়েছিল। ৭১ বছর বয়সী শিশির অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের এক উল্লেখযোগ্য গ্রামনেতা। তিনি ও তার পুত্র তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন।

শিশির অধিকারী ২৫ বছর কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।মনমোহন সিংহ সরকারের গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী। তিনি কাঁথি কেন্দ্র থেকে পঞ্চদশ লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাঁকে দল সেই পদ থেকে সদ্য সরিয়েছে। যেটা তাঁর কাছে সম্মানের হয়নি বলে ঘনিষ্ঠ মহলে শিশির অধিকারী জানিয়েছেন। এবার কী তবে শিশির অধিকারীর দল বদলের পালা? একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমকে শিশিরবাবু বৃহস্পতিবার তেমনই বার্তা দিলেন।তবে তিনি এও বললেন তিনি বিশ্বাসঘাতক বা বেইমান নয়। তিনি বলেছেন, “সব সম্ভাবনা খোলা রয়েছে আমার কাছে।” এই সম্ভাবনারটা কী? রাজ্য রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন সেটাই।

তাহলে কী তিনিও দল বদল করে বিজেপিতে যাবেন? কেননা শিশিরবাবুর এই মন্তব্য শুনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেছেন, “আমরা অপেক্ষা করবো, স্বাগত জানাবো।” শিশির অধিকারীর শারীরিক অবস্থার কথা তুলে মঙ্গলবার তাঁকে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে এবং বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল।এর ফলে ভীষণ ক্ষুব্ধ শিশির অধিকারী । এই সমগ্র বিষয়টি নিয়ে কাঁথির সাংসদ বলেন, “কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করব পরবর্তী পদক্ষেপ। ১৯৬৩ সাল থেকে রাজনীতি করছি ‌।

আরো পড়ুন :বাগবাজার অগ্নিকান্ডে সর্বহারাদের ব্যথা বোঝার কেউ নেই, শুরু কথার পিঠে কথার রাজনীতি

আমি বিশ্বাসঘাতক বা বেইমান নই। যে সিদ্ধান্ত নেব সেটা জানিয়ে দেব দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর জেনে রাখবেন অনেকের চেয়ে আমি বেশি কর্মক্ষম। তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি ফিট আমি । আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, মানুষকে পাশে নিয়েই থাকব। ১৩০ বছর বাঁচব।আমি ইট, কাঠ, পাথর নই। তাই যেভাবে খুশি কোথাও বসিয়ে দেওয়া যায় না।” তাহলে কি তাঁর পুত্র শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন অধিকারী বেইমান ? কেননা সুবেন্দু অধিকারী সরকারি পদ, মন্ত্রিত্ব এবং বিধায়ক পদ ছেড়ে সোজা অমিত শাহের হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী শুভেন্দুকেই অনুসরণ করেছেন। এর আগে মুখ দিয়ে কোনও শব্দ করেননি শুভেন্দু অধিকারী।অনেকেই তাঁর গতিবিধি দেখে ভেবেছিলেন শুভেন্দু আলাদা রাজনৈতিক দল গড়বেন। তৃণমূলের বহু শুভেন্দু অনুগামীও তাই ভেবেছিলেন। তাদের সেই ভাবনা সফল হয়নি। তাই শিশিরবাবুর “আমি বিশ্বাসঘাতক বা বেইমান নই” কথার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে এভাবে কী শিশির অধিকারী তাঁর দুই পুত্র ও আরও যারা আচমকা গিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের ইঙ্গিত করছেন?