বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুতে খুনের মামলা পুলিশের

।। রাজীব ঘোষ।।

হেমতাবাদ এর বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুর মামলায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩০২ ধারা অর্থাৎ খুনের মামলা এবং ৩৪ ধারায় ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা বলেন এর থেকে বোঝা যাচ্ছে আরো অনেক ব্যক্তি মামলার সাথে যুক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। যদি আত্মহত্যায় হতো তবে কেন রুজু করা হলো।

তার মানে প্রকারান্তরে সরকার স্বীকার করে নিলেন বিজেপি বিধায়ক কে হত্যা করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি হেমতাবাদ এর বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে শুরু থেকেই খুন বলে দাবি করছে। ঘটনার সিবিআই তদন্ত চাওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেন দেবেন্দ্রনাথ রায় কে দেখে মনে হচ্ছে না তিনি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। এর আগে পুরুলিয়ায় দেখেছি একাধিক বিজেপি কর্মী যুবককে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য বিজেপির নেতা এবং জাতীয় সম্পাদক রহুল সিনহা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনার সরকারের অবস্থা দেখুন। বাধ্য হয়ে হত্যার মামলা রুজু করতে হলো। আপনার সরকার প্রথমে এটা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে আইন বলে কিছু নেই। পশ্চিমবঙ্গে আইন এবং পুলিশ রাজনৈতিক মোড়কে মোড়া। এটা তার সবথেকে বড় প্রমান। রাজ্য পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল হেমতাবাদ এর বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের পকেট থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

তাতে দুই ব্যক্তির নাম আছে। তবে বিধায়ক পকেটে দুই ব্যক্তির নাম লিখে কেন আত্মহত্যা করতে গেলেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরমধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে হেমতাবাদ এর বিধায়ক এর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন সেই চিঠি রাস্ট্রপতির হাতে তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি’তে হেমতাবাদ এর বিধায়ক এর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে বিধায়ক এর মৃত্যুর পিছনে টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি তাকে বিকৃত তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মমতা। হেমতাবাদ এর বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সঙ্গে দেখা করেন। তার কাছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়।

এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ কে বিধায়ক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তারপর রাজ্য পুলিশ ওই মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজেপি মনে করছে তাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে যে খুন করা হয়েছে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মেনে নিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে পাল্টা প্রচারে কাজে লাগানো হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।