Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

রাজ্যে বাতিল হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর কোনও সভাই

||শর্মিলা মিত্র||

এখনও রাজ্যে তিন দফার নির্বাচন বাকি রয়েছে। সেই মতো এখনও চারটি জনসভা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দুদিনে ওই চার সভা হওয়ার কথা জানা গিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে চলতি  বিধানসভা ভোটের মধ্যেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  তৈরি হয়েছে উদ্বেগও।

এমন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সভার সংখ্যা কমিয়ে আনছে। ইতিমধ্যেই বড় জমায়েত করা হবে না বলে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাম শিবির। অন্যদিকে, আগামী ৩ দফার ভোটের জন্য তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৭টি জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কলকাতার সমস্ত জনসভা বাতিল করেছেন তিনিও।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়ে দিয়েছেন যে, জেলার যে সভাগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করার কথা রয়েছে সেগুলি হবে। তবে অল্প সময়ের জন্য হবে। ইতিমধ্যেই সময় বেঁধে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কলকাতার প্রচারের জন্য ২৬ তারিখ একটি প্রতীকী সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এখানে আর কোনও জনসভা করবেন না বলে আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীও। একইসঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

এরই মধ্যে প্রশ্নে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর বাকি থাকা চারটি সভা নিয়ে। তবে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনও জনসভা বাতিল হবে না। তবে, কোভিড বিধি মেনেই এই জনসভাগুলি হবে বলে জানা গিয়েছে।  ব্যবহার করা হবে এলইডি স্ক্রিনও। এমনটাই বিজেপি সূত্রে খবর।

আরও জানা গিয়েছে যে, একদিনে বাংলায় সব সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই কারণেই ২২শে এপ্রিল বঙ্গে তাঁর সভা বাতিল করা হলেও ২৩শে এপ্রিল চারটি জায়গায় সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বোলপুরের পাশাপাশি খোদ কলকাতার বুকে সভা করবেন তিনি। তবে জানা গিয়েছে, জায়েন্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনেই সভা করার কথা ভাবছে বিজেপি। সভাস্থলে লাগানো হবে বড় এলইডি স্ক্রিন। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে পিএমও দফতর। ট্যুইট করে ইতিমধ্যেই সেই কথা জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

জানা গিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোদির সভায় সর্বত্র শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে বঙ্গ বিজেপি। পাশাপাশি বিজেপির প্রথম সারির কেন্দ্রীয় নেতাদের সংস্পর্শে যাঁরা আসেন তাঁদের সভার আগের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে কর্মীদের কথা ভেবে সর্বত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখা হবে।

আরও জানা যাচ্ছে যে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৩শে এপ্রিল ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে নর্দান পার্কে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই দক্ষিণ কলকাতার বুকে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভার প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে গেরুয়া শিবিরে।