ভার্চুয়াল শহীদ দিবসে ভূমিকায় নেই পিকে,জল্পনা চলছে

।। রাজীব ঘোষ।।

একুশে জুলাই এর শহীদ দিবস এবার ভার্চুয়াল ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ভার্চুয়াল সভাতে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক এর কোনো ভূমিকা থাকবে না। তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেল এই ভার্চুয়াল শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি করছে। 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল খারাপ হওয়ার পরে দলীয় সংগঠন কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নির্বাচন কৌশলী প্রশান্ত কিশোর কে নিয়োগ করা হয়।

তার উপরে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে পুনরায় রাজ্যের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী রণকৌশল তৈরি করতে থাকেন প্রশান্ত কিশোর। নজরুল মঞ্চে দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম জনসংযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয় তৃণমূলে। তারপরে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বাংলার গর্ব মমতা নামে তৃণমূল কংগ্রেসের আরেকটি কর্মসূচি তৈরি করা হয়।

প্রশান্ত কিশোর দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তৃণমূলের প্রায় সমস্ত কর্মসূচি তৈরি করার দায়িত্ব ছিল প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার উপরে। জানা যায় সেই সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জনসমক্ষে মুখ খুলতে নিষেধ করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। রাজ্যে করোনা সংক্রমণ যখন থেকে শুরু হয় তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তাতে ও প্রশান্ত কিশোর রাশ টানেন।

সূত্রের খবর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বাংলার পরিস্থিতি এবং লকডাউন এ প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা খুশি করতে পারেনি মমতাকে। লকডাউন এর শুরুতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কার্গো বিমানে করে কলকাতায় উড়িয়ে আনা হয়েছিল প্রশান্ত কিশোর কে। পশ্চিমবঙ্গে এসেও তামিলনাড়ু এবং তার নিজের রাজ্য বিহার নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন প্রশান্ত। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ।

তৃণমূল সমস্যায় থাকা সত্ত্বেও প্রশান্ত কিভাবে অন্য রাজ্যের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন। তারপর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পরামর্শ বাদ দিয়ে নিজের মতো করেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নেমেছেন বলে জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্বাচন কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দূরত্ব কি বাড়ছে? আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।