চট্টগ্রামে মানুষ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

1 min read

।।চট্টগ্রাম ব্যুরো, বাংলাদেশ।।

করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক হারে কমে আসলেও সংক্রমণের হার কমছে না কিছুতেই। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্যে করোনার ভীতিও নেই বললে চলে। তবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অপরদিকে শনাক্তরা আইসোলেশন না মানায় সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ এখন বাসাবাড়ি থেকে অহেতুক বের হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও উদাসীন। সরকারের উচিত স্বাস্থ্যবিধি ও আইসোলেশন নিশ্চিতে তদারকি বাড়ানো।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নগরীতে সংক্রমণ হার বাড়ছেই। চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাব, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৬৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৮৭ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে চারজন। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬১ জনে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, মানুষের মধ্য থেকে করোনা ভীতি কেটে গেছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। অনেক ক্ষেত্রে করোনা পজিটিভরা ভ্রমণ করছেন। বাসাবাড়িতে আইসোলেশন মানছেন না। বিশেষ করে উপসর্গহীন রোগীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। ফলে তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর পুরো এপ্রিলে আক্রান্ত দাঁড়ায় ৭২ জন। কিন্তু জুন থেকে বাড়তে থাকে শনাক্ত। জুনের শেষে আক্রান্ত ঠেকে ৮ হাজার ৮৫২ জনে। জুলাইতে আরও ৫ হাজার ৬০০ জন এবং চলতি মাসের ১৮ দিনে ১ হাজার ৬৬৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নগরীর ১৭৫ ও বিভিন্ন উপজেলার রয়েছে ৭৮ জন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব বলেন, ‘করোনা পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশন মেনে চলতে হবে। আর এখন যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লোকজন ঘোরাফেরা করে, তাহলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ এখনো সংক্রমণ কমে যায়নি। উল্টো বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘মানুষ এখন বাসাবাড়ি থেকে অহেতুক বের হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়েও উদাসীন। এখন অফিস-আদালত খোলা, এজন্য নিজে বাঁচতে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে আগের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে।