Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

“কৃষক বন্ধু” !সব রাজনৈতিক দলই কৃষক বন্ধু, তবে তো কৃষকদের চিন্তার কারণ নেই!

1 min read

।। শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত ।।


কৃষকের প্রকৃত বন্ধু বলে নিজেদের দাবি করে বিজেপি (bjp)। আবার কংগ্রেস, বাম সহ সবকটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের কৃষকের বন্ধু বলে দাবি করে। এটাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য বা চরিত্র।তবে এর পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি দিল্লি সীমান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা আন্দোলন করছেন। তা হলে প্রশ্ন এসে যাচ্ছে যদি নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রকৃত অর্থে কৃষকবন্ধু তাহলে এই আন্দোলন কেন? কৃষকদের বক্তব্য, দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে কর্পোরেটেদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্যই এই তিনটি কৃষি আইন করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এই আইন বাতিলের ডাকে তাই তারা আন্দোলন করছেন এবং আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিকে এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার ৫ বছর পূর্তি নিয়ে রীতিমতো ভিডিও তৈরী করে প্রচার করছে বিজেপি। এই ভিডিও সহ এক ট্যুইট বার্তায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় লিখেছেন, “স্বনির্ভর কৃষক , শক্তিশালী কৃষক! প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা প্রকল্প কোটি কোটি কৃষককে বিপদের সময় শক্তিশালী সুরক্ষা দিয়েছে।গত পাঁচ বছরে, ফসলের ক্ষতির পরিবর্তে ৮৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।” কিন্তু কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র এই বক্তব্য নতুন কিছু নয়। কৃষি আইন নিয়ে সারা দেশ জুড়ে বিজেপি প্রচার চালাচ্ছে। নিজেদের কৃষকদের প্রকৃত বন্ধু বলে দাবি করছে। এই দৌড়ে বাংলার বিজেপিও পিছিয়ে নেই।

আরো পড়ুন : তৃণমূল একটা পকেটমারকে মুখপাত্র বানিয়েছে, কুণালে ব্যাপক অসন্তুষ্ট শোভন

এই নিয়ে দেশের শাসক দল বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস সহ তৃণমূল, বাম সবার মতপার্থক্য এবং তীব্র বিরোধ আছে।কৃষি ও কৃষক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতায় এই বিরোধী দলগুলি সরব। তারা বলছেন, দেশের কৃষকের ফসলে এবং ফসলের মাঠে হাত দিতে এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি সরকার। নরেন্দ্র মোদির সরকার চাইছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মতো , রেলের মতো কৃষি ব্যবস্থাকেও বহুজাতিক বা দেশের কিছু ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিতে চাইছে। তাই এই আইন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিরোধীদের পাল্টা বলছেন, দেশের কৃষকদের এতকাল যারা সর্বনাশ করেছে এখন তারাই কৃষকবন্ধু হয়েছেন। পাশাপাশি কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেছেন এই রাজ্যের কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী কৃষি যোজনা থেকে তৃণমূল সরকার বঞ্চিত করেছে।

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে একবারে তিন বছরের টাকা অর্থাৎ৬ হাজার করে মোট ১৮ হাজার কৃষকদের দেওয়া হবে। যে টাকা পাওয়ার থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। যাই হোক, দেশ থাকলে রাজনীতি থাকবে, সরকার থাকবে। সরকার থাকলে বিরোধী থাকবে। আর এভাবেই শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে দড়ি টানাটানিও থাকবে। তবে কৃষক স্বার্থে আজ বিজেপি যা বলছে আগামী দিনে যে সেটা হবেই এই কথাটা দেশের কৃষকরা বিশ্বাস করতে পারছেন না।সেটা তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা হতে পারে আবার বর্তমান বিজেপি সরকারের কৃষি আইন দেখেও হতে পারে। তারা পুরোনো ব্যবস্থায় বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। এবার দেখার বিজেপির কৃষক প্রীতি না কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক আন্দোলন, কার জয় হয়। তবে বিজেপির জয়ের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমার ৫ বছর পূর্তির জন্য কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র ট্যুইট যে কাজে আসবে সেটা বলা বাহুল্য।