Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ছেলের পায়ে বাবা-মার শেকল!

1 min read

।। সুদীপা সরকার ।।

জন্মের কিছুদিন পর থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন। ছেলেটি ঠিক ভালোভাবে কথাও বলতে পারেন না।
যত বড় হয়েছে মানসিক রোগ বেড়েছে। মাঝেমধ্যেই এইদিক ঐদিক চলে যেত ছেলে। ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করে নিয়ে আসতো বৃদ্ধ বাবা-মা। বাবা মার বয়স হয়েছে আর তারা পেরে ওঠেন না। তাই বাধ্য হয়ে ছেলের পায়ে শেকল বেঁধে দিয়েছেন। দুটি পায়ে পড়েছে কালশিটের দাগ। আমরা সকলেই জানি মানসিক রোগ যত বাড়তে থাকে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন সামাজিক পেশাগত জীবন ব্যাহত হয়।
রোগীও যেমন অস্বস্তিতে ভোগেন ভোগেন তার বাড়ির লোকজন ও। মানসিক রোগের প্রথম থেকে চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে গেলে তা সেরে ওঠে।

কিন্তু যাদের দিন আনা দিন খাই অবস্থার মধ্যে দিন চলে তাদের কাছে এই রোগের চিকিৎসা করানো দুঃসাধ্যের ব্যাপার।দিনের পর দিন বাড়ছে ছেলের মানসিক ভারসাম্য হীনতার সমস্যা।মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মা-বাবাসহ পরিবার প্রতিবেশীদের মারধর করছিল ছেলে।বাধ্য হয়ে ছেলের পায়ে শেকল দিয়ে তালা বন্দি করে রেখেছে বাবা-মা। ছেলের চিকিৎসার জন্য বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নি।বাধ্য হয়েই সরকারি সাহায্যের আরজি জানাতে বৃহস্পতিবার শেকলবন্দি অবস্থায় ছেলেকে জেলা প্রশাসনের কাছে নিয়ে আসেন বাবা মা।

মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের চৌকি মিরদাদপুর এর সালাবাদগঞ্জের বাসিন্দা শেখ বুদ্দিন।তার ছোট ছেলে শেখ কাশেদ বয়স ২৯। অনেক বছর আগে থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে কাশেদ।প্রথমে সমস্যা কম ছিল।বাবা শেখ বুদ্দিন পেশায় শ্রমিক।শেখ কাসেদ এক সময় শ্রমিকের কাজ করতেন।কিন্তু মানসিক রোগ ক্রমশ বাড়তে থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।এমনকি স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়।অভাবী সংসারে যতটুকু পেরেছে পরিবার তার চিকিৎসা করিয়েছে।এখন সমস্যা আরো বেড়েছে। চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবার।এক বছর ধরে বাড়িতে শেকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে ছেলেকে।প্রশাসনের সাহায্যের আশায় এখন বসে রয়েছেন ওই অসহায় পরিবার টি।