আবারও বৈশাখী ঝড়ে আটকে গেলেন শোভন

1 min read

।। ময়ুখ বসু ।।

আশা জাগিয়েও কি শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হবে না? শনিবার শোভন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছিলো, শোভন চট্টোপাধ্যায় তাহলে বিজেপির হয়ে ময়দানে নামছেন। কিন্ত সেই আশা জাগানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘটে গেলো ছন্দপতন। গত শুক্রবার কার্যত রাতভর বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন এবং রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠক চলে শোভন-বৈশাখীর।

এরপরেই রাজনীতিতে শোভনের সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। কিন্ত তারপর মাত্র একটা পদক্ষেপেই সেই জল্পনায় জল পড়ে গেলো বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রবিবার বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীলিপ ঘোষের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। যেখানে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ থাকলেও আমন্ত্রণ নেই বৈশাখীর। ফলে শুক্রবার রাতের বৈঠকের ছন্দপতন ঘটলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

শোভন-বৈশাখী সাফ জানিয়ে দেন, তাদের দুই জনকে নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। ফলে তারা কেউই বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে যাবেন না। মূলত শোভন ও বৈশাখী দুই জনেই বিজেপির রাজ্য সমিতির আমন্ত্রিত সদস্য। সেখানে একজনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অপরজনকে আমন্ত্রণ না জানানোয় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ তারা। শোভনের অভিযোগ, বিজেপির একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের মধ্যে এই বিভাজন করে চলেছে। তারা চাইছে না, একসঙ্গে শোভন-বৈশাখী দলে কাজ করুন।

আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা রাজ্য বিজেপির একাংশ মানতে চাইছেন না? যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু জানান, কোথাও একটা মিস কমিউনিকেশন হয়ে গিয়েছে। যে কারনের জন্য একজনের কাছে আমন্ত্রণ গেলেও অন্য জনের কাছে আমন্ত্রণ যায়নি। আমরা ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কার্যত, বিধানসভা ভোটের আগে শোভনকে দলে সক্রিয় করতে মরিয়া বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

সেখানে দাঁড়িয়ে শোভনকে বারবার বোঝানোর পরেও প্রব্লেম তৈরি হচ্ছে বৈশাখীকে নিয়ে। রাজনীতি বিদরা মজা করে বলেন, শোভন বৈশাখী কার্যত মেড ফর ইচ আদার। সেখানে তাঁদের মধ্যে একজনকে সক্রিয় করতে গেলে অপরজনকেও যে সক্রিয় করতে হবে সেই সহজ পন্থা থেকে বিজেপি সরে এলেই বিপদ। যে কারনে বিজেপিতে শোভনকে সক্রিয় করতে গেলে বৈশাখীকেও সক্রিয় করতে হবে। আর সেটা রাজ্য বিজেপি কতোটা মেনে নেবে সেটাই শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয়।

Categories