Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা গেল তৃণমূলে, বেসুরো প্রসূন

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

আজ ছিল তৃণমূলের ২৪ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষে সকাল থেকেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন কার্যালয়ে। ইএম বাইপাসে তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। আর জেলায় জেলায় এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রকট হল তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। হাওড়া, বর্ধমান, হুগলির সিঙ্গুরসহ বহু জায়গায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা গেল এদিন। আর এই সম্পর্কিত ঘটনা নিয়ে বেসুরো কথা শোনা গেল হাওড়ার তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে। বিধানসভার নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন বিজেপির আগ্রাসন বাড়ছে। তৃণমূল ছেড়ে নেতা,বিধায়ক মন্ত্রী, সাংসদরা বিজেপিতে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে এককাট্টা হওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি তৃণমূলের কাছে। কিন্তু সেখানে দিনকে দিন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার হয়ে পড়ছে জোড়াফুল শিবির।

শুক্রবার হাওড়ায় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এটাই জেলার সবচেয়ে বড় কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না ডোমজুড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা, হাওড়ার তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে অরূপ রায় বলেন,” জানি না ওরা কেন আসেননি। যারা তৃণমূলের পুরনো দিনের সঙ্গী, তাঁরা প্রত্যেকেই এসেছেন। সবাই এলে ভালো হতো। চাইব আগামীদিনে যেন সবাই আসেন”। বিষয়টি নিয়ে প্রসূন বলেন, কি চলছে বুঝতে পারছি না। এক অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিনটি জায়গায় মিছিল হচ্ছে। এখনো জেলা কমিটি হল না। এভাবে চললে হাওড়ার ১৬ টি আসনে জেতা মুশকিল হয়ে যাবে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আমি সবাইকে নিয়ে বসার চেষ্টা করব। যেভাবে হাওড়াতে তৃণমূল চলছে, তাতে তিনি যে কতটা অসন্তুষ্ট তা পরিষ্কারভাবে এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

[ আরো পড়ুন :নাম না করে রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু? ]

একই ছবি দেখা গেল হুগলির সিঙ্গুরে। যথারীতি দুই বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং বেচারাম মান্না আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান করলেন। বেচারাম বলেন, তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ আছে। মাস্টারমশাই কেন আসেননি জানি না। হয়ত অন্য কোনো কর্মসূচিতে আছেন। লোকসভায় আমরা সিঙ্গুর থেকে হেরেছি। বিধানসভায় জিতে দেখাব। যদিও বেচারামকে উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য তীব্র তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ধান্দাবাজে ভরে গিয়েছে দল। এভাবে চললে হবে না। দল যদি ওদের টিকিট দেয় তাহলে সমর্থন করব না। উল্লেখ্য বেচারাম সিঙ্গুরে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেছেন নিজের মতো করে। রবীন্দ্রনাথ সেখানে পাল্টা অনুষ্ঠান করেছেন গোপালনগরে। দুই নেতার দ্বন্দ্ব যে এতটুকু মেটেনি, আবার সেটা বোঝা গেল।

এদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে বর্ধমান জেলাতেও। কোন গোষ্ঠীর হাতে স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয় থাকবে, কারা পতাকা তোলায় নেতৃত্ব দেবেন, এটা নিয়ে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় দুই গোষ্ঠীর নেতাকর্মীদের মধ্যে। একদল অন্য দলের ওপর চড়াও হয়। একজনের মাথা ফাটে। দুই গোষ্ঠীর দাবি তারাই আসল তৃণমূল। বিজেপি যোগ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে ঘটনা নিয়ে। অর্থাৎ নিচু তলার কর্মীদের পাশাপাশি উপরতলার নেতা-মন্ত্রীদের ওপরেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ যে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে, সেটা এ দিনের ঘটনায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটা যে তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।