Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কলকাতা থেকে অদূরে তেলের খনি, এবার লাভের মুখ দেখবে বাংলা

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

করোনা মোকাবিলায় বিপুল খরচের পাশাপাশি লকডাউনের কারনে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাজস্ব সংগ্রহ। অন্যদিকে, বাকি রয়েছে বকেয়া জিএসটিও। কেন্দ্রের কাছে বারবারই বকেয়া পাওনার দাবি জানিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে দাঁড়াতে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বলেও সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে, কিছুটা হলেও বদল করতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান। জিএসটি ক্ষতিপূরণের উদ্দ্যেশে ঋণ গ্রহণ করে ওই অর্থ থেকেই জিএসটি ঘাটতি মেটাতে রাজ্যগুলিকে ঋণ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার বলেও জানা গিয়েছে।

আর এবার, এরই মধ্যে বাংলার জন্য সুখবর শোনালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুক্রবার মন্ত্রী জানান, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই বাণিজ্যিক খনিজ তেলের বড়সড় ভান্ডার পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। তার জেরে কার্যত কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হতে চলেছে রাজ্য সরকারের বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।তিনি জানান, কলকাতা থেকে মাত্র ৪৭ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত সদর মহকুমার অশোকনগর থানার বাইগাছি এলাকায় বিশাল খনিজ তেলের ভান্ডার পাওয়া গিয়েছে কয়েক বছর আগেই। এবার সেখান থেকেই বাণিজ্যিক ভাবে তেলের উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

জানা গিয়েছে, বাইগাছি এলাকায় অশোকনগর-নৈহাটি জেলা সড়কের ধারেই পাওয়া গিয়েছে এই বিশাল খনিজ তেলের ভান্ডারের সন্ধান। ওই খনিজ তেল উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছে ওএনজিসি। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সেখানকার তেল হলদিয়াতে ইন্ডিয়ান অয়েলের তৈল শোধনাগারে পাঠানো হয় জানার জন্য যে, ওই তেল বাণিজিক ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে কিনা তা জানতে। সম্প্রতি ইন্ডিয়াল অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই তেলের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব। আর তারপরই, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়ে দেন যে, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই ওই খনিজ তেল উৎপাদনের মতো পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে। আর তারপর শুরু হয়ে যাবে ওই তেলের উৎপাদন।

আরো পড়ুন : রাজ্যে বাড়ছে নারী নির্যাতন, মমতাকে কড়া চিঠি রাজ্যপালের

অসমের থেকেও বেশি তেল বাইগাছি থেকে উৎপাদিত হবে বলেও জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওএনজিসি সূত্রে খবর, দৈনিক ভিত্তিতে ১ লক্ষ ঘনমিটার গ্যাস ও ১৮ হাজার ঘনমিটার তেল উৎপাদিত হবে বাইগাছি থেকে। এক ঘনমিটার মানে এক হাজার লিটার। তাই, বোঝাই যাচ্ছে কত বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও তেল সেখানে মজুত রয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, ইতিমধ্যেই ওই তেল উৎপাদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৩ একর জমি পেয়েছে ওএনজিসি। সেই জমিতেই চলছিল পরীক্ষানীরিক্ষা স্তরে উৎপাদন। এবার বাণিজ্যিক ভাবে এর উৎপাদন করতে গেলে আরও ২৭ একর জমির প্রয়োজন। সেই জমিই রাজ্যের কাছে চাওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি, আশা করা হচ্ছে, একবার এই তেল বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত হতে শুরু করলে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্বের মুখ দেখবে রাজ্য সরকার। তার ফলে অনেকটাই দূর হয়ে যাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক সঙ্কটও। এছাড়াও, বাইগাছি এলাকায় তৈরি হয়ে যাবে খনিজ তেলের নানা অনুসারী শিল্প। তার জেরে কাজেরও সন্ধান পাবেন কয়েক লক্ষ তরুণ তরুণী তা বলাই যায়। বাড়বে কর্মসংস্থানও। বাইগাছি এলাকার বিশাল খনিজ তেলের ভান্ডারের হাত ধরে বলাই যায় বড়সড় জোয়ার আসতে চলেছে গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অর্থনীতি জুড়েই। যার আঁচ পড়বে কলকাতার অর্থনীতিতেও। তার জেরে সামগ্রিক ভাবে লাভবান হবে রাজ্য।