শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয়, আনন্দ নিয়ে আসে কাঠামোও !

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

একেক জনের কাছে একেক রূপে আসেন দেবী দুর্গা। আমরা সকলেই জানি দুর্গাপুজো মানে শুধুমাত্র আনন্দ নয়। আনন্দের থেকেও আরও বেশি কিছু। দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের রুজি রোজকারও। বছরের এই একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অনেকের জীবন। বছরের এই একটা সময়ের অপেক্ষায় যেমন থাকেন মণ্ডপ সজ্জা করেন যারা, পুজোর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন যারা, আলোক সজ্জার সঙ্গে যুক্ত থাকেন যারা, তেমনই অপেক্ষা করে থাকেন পুজো উপলক্ষ্যে মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেন যারা তারাও।

পাশাপাশি আরও বহু মানুষই অপেক্ষা করে থাকেন বছরের এই একটি সময়ের জন্য। তেমনই অপেক্ষা করে থাকে সুমন, পাপাইরাও। কে এই সুমন, পাপাই ? আজ জানবো তাদের কথা। প্রতিবছরই সামান্য কিছু উপার্জনের আশায় নদী দূষন রোধ করতে এগিয়ে আসে সুমন, পাপাই-এর মত বেশ কয়েকজন যুবক। পুজো শেষ। শেষ দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের পালাও। রায়গঞ্জ পুরসভার পক্ষ থেকে ঘাট গুলিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের ঘাট সহায়ক রাখা হয়েছিল।

আরো পড়ুন : বিধান নগর দক্ষিণ থানার হাতে গ্রেফতার ভুয়ো চিকিৎসক

যাদের কাজ বিভিন্ন ক্লাব এবং বারোয়ারী পুজোর প্রতিমা এলে তারা প্রতিমা নিয়ে নদীতে নিরঞ্জন করে দেবেন।কিন্তু নদীতে যে প্রচুর পরিমানে প্রতিমা নিরঞ্জন হচ্ছে সে গুলো কে সরাবে। এই কাঠামো খড় নদীতে থাকলে নদীর জলও তো দূষিত হয়ে যাবে। না, নদীকে দূষনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নদীর জলে ছোটাছুটি করছে সুমন, পাপাই-এর মত আরও বেশ কয়েকজন যুবক। যে আগে যে কাঠামোটি ধরবে তারই হবে সেই পুরো কাঠামোটি। আর এই কাঠামোগুলি বিক্রি করলে হাতে আসবে বেশ কিছু বাড়তি টাকা।

আর সেই বাড়তি টাকা অভাবের সংসারে নিয়ে আসে খুশির ছোঁয়া। আর তাই, বছরের এই দিনটির দিকে তাকিয়ে থাকে পাপাই, সুমনের মত বেশ কয়েকজন যুবক।পাশাপাশি, নদী সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি হওয়ার কারনে বর্ষার সময় নদীর জলস্ফিতিতে বাড়িঘর ভেঙ্গে যায়। এই কাঠামোর কাঠ দিয়ে বাড়ি সারাইও করে নেন অনেকেই। তাই, শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নয় পুজোর পরে বিসর্জনের পর প্রতিমার কাঠামোও হাসি ফোটায় সুমন, পাপাইদের মত কাঠামো সংগ্রহকারী যুবকদের মুখে।

Categories