Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মুকুল- দিলীপ নন, মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রুপা, লকেট, সুভাষরা

।। নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীর মন পেতে গত লোকসভা নির্বাচনে জেতা কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এমনটাই জানা গিয়েছে গেরুয়া শিবির সূত্রে। আপাতত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকাররা। তবে মন্ত্রিত্বের অন্যতম দাবিদার অপর সাংসদ আলুওয়ালিয়া। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে আগে বহুবার কটাক্ষ করেছে রাজ্য বিজেপিকে। গত লোকসভায় রাজ্য থেকে ১৮ আসনে জেতার পরেও মাত্র দুজনকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে মাত্র। একজন কেউ পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়নি। তাহলে রাজ্য থেকে বিজেপির এত সাংসদদের জিতিয়ে কি লাভ হল? এমন প্রশ্নও বহুবার তুলেছে তৃণমূল।

তাই বিধানসভা নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে তখন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্য থেকে যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সংখ্যা আরো বাড়ানো যায় তবে যে বাংলাবাসীকে একটা ভালো বার্তা দেওয়া যাবে, তা মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাড়, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডারা। রাজ্য থেকে বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকলে তাতে যে সংগঠন অনেকটা চাঙ্গা হয় তার বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ একজন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ওজন যে অনেকটাই বেড়ে যায় তা পরিষ্কার। সর্বোপরি এর ফলে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে। নির্বাচনের আগে এতে রাজ্য সরকার অনেকটাই চাপে পড়বে বলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছেন। সেই কারণেই সামনের মাসে কেন্দ্রে মন্ত্রিসভার যে সম্প্রসারণ হবে সেখানে বাংলার অন্তত দুজনকে দেখা যাবে বলে সকলেই মনে করছেন।

একটা সময় মুকুল রায়কে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল যে তিনি হয়ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আসবেন। বিজেপিতে যোগদান করার পর দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ পাননি মুকুল। মাসখানেক আগে মুকুলকে দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছে। আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বাংলায়। বিজেপির মতো সাংগঠনিক দলে মন্ত্রিত্বের চেয়ে রাজ্য সভাপতি পদের গুরুত্ব যে অনেক বেশি, সেটা সকলেই জানেন। তাই দিলীপ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে চাইবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন রুপা, লকেট, সুভাষরা। সুভাষ এবং লকেট লড়াই করে জিতে এসেছেন কঠিন আসন থেকে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যসভার সাংসদ। একটা সময় ছিলেন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। অভিনয়ের জন্য গোটা দেশেই তিনি অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। সবমিলিয়ে রুপাকেও যদি মন্ত্রিসভায় আনা যায় তাতেও বিজেপির ফায়দা হবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবিরের একাংশ। তাঁদের পাশাপাশি মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, এমনটাও শোনা যাচ্ছে বিজেপি সূত্রে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা কি সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।