Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

আর ব্যাকগিয়ার নয়, লুক ফরোয়ার্ড, কামব্যাক করে তৃণমূলকে ‘সোনার বাংলা’- তোপ শোভনের

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

মিছিল শুরু হওয়ার আগেই তীব্র কটাক্ষ তৃণমূলকে। যারা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বহিরাগত বলছেন, তাঁরা আয়নায় আগে নিজের মুখ দেখুন। ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রে যখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ছিল, তাদের সাহায্য নিয়েই তৃণমূল দল তৈরি হয়েছিল। তাই এখন বিজেপি নেতাদের বহিরাগত বলছেন কিভাবে? বক্তার নাম শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovon Chatterjee) । বিজেপিতে এসে তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন এক বছরের বেশি সময় ধরে। গত সোমবার মিছিল করে হেস্টিংস বিজেপির নতুন কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল শোভন এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Baishakhi Bandyopadhyay)। কিন্তু সেদিন তাঁরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বিজেপির অন্দরে। শোভন এবং বৈশাখীর জন্য যে ঘর বরাদ্দ করা হয়েছিল দলীয় কাজকর্মের জন্য, সেই ঘরের দরজায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়। দরজা থেকে খুলে ফেলা হয় তাঁদের নামে তৈরি করা অস্থায়ী নেমপ্লেট। বৈশাখী জানিয়েছিলেন, তিনি অসুস্থ থাকায় মিছিলে যেতে পারেননি। কিন্তু শোভন কেন যাননি তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁদের বোঝাতে দ্রুত আসরে নামেন বিজেপি নেতৃত্ব। শোভনের গোলপার্কের বাড়িতে যান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। এরপরই ঠিক হয় আজ সোমবার গোলপার্ক থেকে মিছিল হবে সেলিমপুর পর্যন্ত। সেই মিছিলে অংশ নিয়ে আজ থেকেই বিজেপির হয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে কামব্যাক করবেন শোভন এবং বৈশাখী।

আরো পড়ুন :কয়লা -গরুপাচার কাণ্ডে এবার ইডির হানা, তদন্তে ১৫ দল

শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। উল্লেখ্য শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপি কলকাতা সাংগঠনিক জোনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে করা হয়েছে সহকারি আহ্বায়ক। গত সোমবার মিছিলে অংশ নিয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবেন এমন প্রত্যাশা ছিল বিজেপির। কিন্তু সেদিন ব্যাকগিয়ার দিয়েছিলেন দুজনেই। আজ কিন্তু সমস্ত দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ভুলে সামনের দিকে এগনোর শপথ নিয়েছেন তাঁরা। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ গোলপার্কের সামনে থেকে বিশাল মিছিল শুরু হয়। দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই মিছিলের আয়োজন করেছে। তবে শোভন এবং বৈশাখী ছাড়া ট্যাবলোতে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেখা যায়নি।

যত সময় এগিয়েছে ততই মিছিলে ভিড় বেড়েছে। হাতজোড় করে সমবেত মানুষকে প্রণাম জানিয়েছেন তাঁরা। আর মিছিল থেকেই নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন শোভন। তিনি বলেন, ” তিনি কোন সোনার বাংলার কথা বলছেন? যেখানে গরু পাচার হয়, যেখানে কয়লা পাচার হয়, যেখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রূপায়ণ করা হয় না, চারদিকে চুরি আর দুর্নীতি হয়? তিনি সেই সোনার বাংলার কথা বলছেন? এই সোনার বাংলা চাই না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমরা যখন ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকার করেছিলাম, তখন এসব অভিযোগ ছিল না। এখন সেই অভিযোগের মাত্রা প্রচুর বেড়েছে।

সোনার বাংলা গড়া তো পরের কথা, তৃণমূলের এবার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। বিজেপির কাছে কৃতজ্ঞ তাদের হয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।” এভাবেই শোভন মিছিলে অংশ নিয়ে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলকে। উল্টোদিকে বৈশাখী বলেন, অনেকেই বলেছিলেন আমার গ্রহণযোগ্যতা নেই। আজকের মিছিলে যে সাড়া পাচ্ছি, সেটা দেখে কি বলবেন? অনেকে বলেছিলেন শোভন ফুরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মানুষের উন্মাদনা দেখুন। বাংলা থেকে তৃণমূলের বিদায় হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে কামব্যাক করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। গতকাল হেস্টিংস এ বিজেপি কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। তারপরই আজ অংশ নিলেন মিছিলে। তিনি যে এবার পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছেন, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেল রাজ্য বিজেপির কাছে। আগামীদিনে শোভন কিভাবে কাজ করেন সেটাই এখন দেখার।