শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন দলের, তৃণমূলের বিধায়কেরই সুর নরম

দলের শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন, বললেন তৃণমূল বিধায়ক
ক্ষোভ না বলে আত্মসমালোচনা বলা ভালো। কয়েক মাস আগে হুগলি জেলার বিধায়কের সবাই আমরা বসে আলোচনা করেছিলাম যে কিভাবে হুগলি জেলায় দলকে আরও শক্তিশালী করা যায়। এই কথা বললেন উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। তিনি আরো বলেন সেই বৈঠকের পরে রাজ্য নেতৃত্ব দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি তারা এই বিষয়ে লক্ষ্য দেয়।

রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করে দেয় জেলায় দল কিভাবে চলবে তার একটি গাইডলাইন করা হয়। লোকসভা নির্বাচনে হুগলি জেলার আসনের তৃণমূল জয়লাভ করেছে। কিন্তু ফলাফল আশাব্যঞ্জক হয়নি। তারপরে দলের সংগঠনে রদবদল করা হয়। যাতে দল শক্তিশালী হয় কিন্তু দেখা যাচ্ছে দল আরো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে যাচ্ছে। দলের মধ্যেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। অনেক বিধায়ক অভিযোগ করেন তাদের এলাকায় তাদেরকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে দলের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি করছেন কতিপয় নেতারা। আরো খারাপ ব্যাপার বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে শক্তিশালী করতে চাইছেন, রাজ্যে উন্নয়নমূলক কর্মসূচী নিচ্ছেন, অথচ নিচতলায় বেশ কিছু মুখ চারিদিকে চরে বেড়াচ্ছে। এই মুখগুলোকে সরিয়ে যদি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মুখ তুলে আনা না যায় তাহলে বিধানসভা নির্বাচন দলের কাছে খুব কঠিন লড়াই। দলের শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন।

দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যদি শুদ্ধিকরণ না করা যায় তাহলে দলকে সমস্যায় পড়তে হবে। আগের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এর বিরুদ্ধে কেউ ভোট দেয়নি, তৃণমূলের নিচুতলার একশ্রেণীর নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে। বিজেপি প্রসঙ্গে বলেন বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে শুধু তৃণমূলে নয়। তবে তৃণমূলের শুদ্ধিকরণ হলে দলের সংগঠন শক্তিশালী হবে। দলীয় নেতৃত্ব যদি এই দিকে লক্ষ্য রেখে এগোয় তাহলে ঠিক হবে।