সিইউজের বিবৃতি সত্যকে আড়াল করেছে নোয়াব

।। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ।।

সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবিকে আড়াল করে চট্টগ্রামে পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের জন্য চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নকে (সিইউজে) সুকৌশলে অভিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে পত্রিকা মালিকদের সংগঠন নোয়াব প্রকৃত সত্যকে আড়াল করছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে  সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, বারবার আশ্বাস দেয়ার পরও বছরের পর বছর সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করায় সিইউজে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে। পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের দায় কোনভাবেই সাংবাদিক সংগঠনের ওপর দেয়া যাবে না। স্বেচ্ছাচারি আচরণের মাধ্যমে কোন ধরণের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পারষ্পরিক যোগসাজসে মালিকরা পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রেখেছেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যে পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনা মালিকরা বন্ধ করেছেন সেসব পত্রিকার মধ্যে দুইটিতে ঈদুল ফিতরের সময় কোন বোনাস দেয়া হয়নি। তিনটিতে বোনাস দেয়া হয়েছে অর্ধেক। একই আচরণ করা হয়েছে ঈদুল আযহার সময়ও। সিইউজে’র পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানোর পরও এমন আচরণ দু:খজনক।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কেবল ঈদ বোনাস নয়, সিইউজের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বানের পরও বছরের পর বছর সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আসছেন মালিকরা। চট্টগ্রামের পত্রিকাগুলো এখনো পর্যন্ত ৮ম ওয়েজবোর্ড পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করেনি। পূর্ণাঙ্গ ওয়েজবোর্ড বা¯তবায়ন করার আশ্বাসে ২০১৫ সালে চুক্তি করা হলেও তা লঙ্ঘণ করে চলেছেন।

তারা বলেন, বন্ধ রাখা একটি পত্রিকায় কর্মীদের ২১ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকগুলোও গত জুলাই মাসের বেতন এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। কোন কোন পত্রিকায় গত পাঁচ বছরে কোন ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়নি। এরপরও করোনাকালে নূন্যতম সুরক্ষা ছাড়াই সংবাদ কর্মীদের রাত দিন কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। রাতের শিফটে মধ্যরাত অবধি কাজ করার পরও কোন পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়নি। যা সম্পূর্ণ অমানবিক বলে সিইউজে মনে করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সিইউজের কোন কর্মসূচিই হঠাৎ করে ঘোষণা করা হয়নি। দফায় দফায় দাবি পূরণে মালিকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে দাবি পূরণের আহ্বান করা হয়েছে। এমনকি মালিকদের সঙ্গে ফোনালাপে বৈঠকের আহ্বান করা হলেও তা প্রত্যাখান করেছেন মালিকরা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল মালিকদের ঘরে নয়, সাংবাদিকদের ঘরেও স্ত্রী, সন্তানরা থাকেন। তাদের কথা বিবেচনা করে মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা উচিত। তাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনে এগিয়ে আসার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান সিইউজে নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে বিবৃতিতে অবিলম্বে পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা চালুর দাবি জানানো হয়।