Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

তৃণমূলের ভোট ভাবনায় নদিয়া জেলা

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

নদিয়া জেলায় লোকসভা কেন্দ্র দুটো। ২০১৯-এর ভোটে তার মধ্যে কৃষ্ণনগর জিতলেও বিজেপির কাছে রানাঘাট খুইয়েছিল তৃণমূল। লোকসভার অঙ্কটা ১-১, কিন্তু বিধানসভা ভিত্তিক অঙ্কটা শাসক দলের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো। সব মিলিয়ে নদিয়ায় বিধানসভা আসন ১৭টা। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে তার মাত্র ৬টায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল। বাকি ১১টাতেই পিছিয়ে। এ অবস্থায়, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে নভেম্বর ২০২০ তে নদিয়া জেলার পূর্ণাঙ্গ নতুন জেলা কমিটি গঠন করে তৃণমূল। জেলা তৃণমূল সভানেত্রী করা হয় মহুয়া মৈত্রকে। চেয়ারম্যান হন উজ্জ্বল বিশ্বাস।


এবার ভোটের কথা মাথায় রেখে এই জেলার সংগঠনকে ঢেলে সাজাগে গত ১৬ দিন ধরে টানা ব্লক স্তরে বৈঠক হচ্ছে। এই বৈঠকের পর বর্তমান জেলা কমিটিতে ১১ জনকে নতুনভাবে সংযোজিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে জেলার সর্বস্তরের প্রতিনিধির নেতৃত্বকেই রাখা হয়েছে বলে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে লিখেছেন মহুয়া মৈত্র।

লক্ষ্য একটাই নদিয়া জেলায় বিজেপিকে বিপর্যস্ত করা। তবে সেটা কিছুটা হলেও সম্ভব হতে পারে। তার কারণ নদিয়া জেলা বিজেপি এখন নিজেরাই নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে। রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁকে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব কাজ করতে দিচ্ছে না।

এটা হচ্ছে জেলা বিজেপির বর্তমান অবস্থা। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বুদ্ধিমতী নেত্রী মহুয়া মৈত্র যে দলকে গুছিয়ে নিতে পারবেন সেই বিশ্বাস তাঁর আছে বলেই তিনি মনে করেন।
একটু পেছনের দিকে আসা যাক। গত ২০১৯- এর
লোকসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে গৌরীশঙ্কর দত্তকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নদিয়াকে দু’টি সাংগঠনিক জেলায় ভাগ করা হয়। সেই সময় রানাঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয় শঙ্কর সিংহকে।

আর কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব পান মহুয়া মৈত্র। পরে ওই দুই সাংগঠনিক জেলাকেই মিলিয়ে দিয়ে একটি কমিটি করা হয়। সেখানে পুরনো কমিটির অনেকেই রয়েছেন। আছেন অনেক নতুন মুখ।
জেলা তৃণমূলের একাংশের মত, নদিয়ায় দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী সক্রিয়। সেই সব গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দলও রয়েছে। কিন্তু নতুন কমিটিতে সকলকে রাখার ফলে, গোষ্ঠী সংস্কৃতিকে খুব একটা প্রশ্রয় দিতে পারবেন না কেউই।

লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফল এবং এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে, পুরনো অনেক কর্মী বসে গিয়েছিলেন। নতুন কমিটিতে তাঁদের অনেককেই ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর।

তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ সামলানো শঙ্কর সিংহকে ওই পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি করা হয়। তাঁকেও রাখা হয়েছে নতুন জেলা কমিটির অ্যাডভাইজরি বোর্ডে।

মহুয়া মৈত্রকে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী, উজ্জ্বল বিশ্বাসকে চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি ১৭ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তিন জন কোঅর্ডিনেটরকেও রাখা হয়েছে ওই কমিটিতে। এঁরা হলেন দীপক বসু, নাসিরুদ্দিন আহমেদ এবং আবিররঞ্জন বিশ্বাস। জেলা তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘আগের যে কোনও কমিটিতেই কৃষ্ণনগরের দাপট বেশি থাকত। কমিটির প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই কৃষ্ণনগরের হতেন। এ বারের কমিটিতে কিন্তু জেলার প্রতিটি ব্লকের উপস্থিতি রয়েছে।’’
নতুন এই কমিটিতে জেলার তৃণমূলকর্মীরাও বেশ আশান্বিত। এক কর্মীর কথায়, ‘‘আমাদের জেলায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বটা বড় বেশি প্রকট। সকলেই কোনও না কোনও গোষ্ঠীর লোক হিসেবে পরিচিত। কেউ গৌরীশঙ্কর দত্তের লোক। কেউ মহুয়া মৈত্রের। কেউ আবার শঙ্কর সিংহের।’’ জেলা তৃণমূলের এক নেতা এই অভিযোগ মেনে নিয়ে বললেন, ‘‘নতুন কমিটিতে কেউ কারও লোক নয়। সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক। দিদির লোক হয়েই সকলে ভোটের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

[ আরো পড়ুন :রাজ্যে বাম কংগ্রস জোটের ঢাক পেটানো শুরু হলেও শেষ অবধি তাল কাটবে না তো? ]

আমরা আগামী বিধানসভায় ১৭টার মধ্যে অন্তত ১৪টা আসন পাবই। তার বেশিও হতে পারে।’’
জেলার সভানেত্রী মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, নতুন কমিটি আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন ব্লকে কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিদের রেখে।

সেখানে সমস্ত ব্লকের উপস্থিতি রয়েছে। আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী বিধানসভায় লড়াই করব। বিরোধীদের কোনও সুযোগই আর দেব না।

তবে এটাই সম্পূর্ণ কমিটি নয়। তাই মহুয়া মৈত্রর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে নদিয়া জেলা কমিটিতে সমন্বয় বাড়াতে কমিটিও পরিসরে আরও বাড়বে।

The following new appointments have been made to the Trinamool Congress Nadia District Committee with immediate effect. These are ADDITIONS to the existing committee. This is NOT the complete committee

Posted by Mahua Moitra – মহুয়া মৈত্র on Wednesday, January 6, 2021