Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

এ আরও বিপদ! এদের মতি গতি নিয়ে সংশয় তৃণমূলের

1 min read

।।ময়ুখ বসু ।।


রাজ্যজুড়ে উভসংকটে তৃণমূল (tmc)। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে দল ভাঙনের আশংকায় কোন্দল দমনে কড়া হওয়ার রাস্তায় হাঁটতে না পারার অপারগতা। এই দুইয়ের মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহা ফাঁফরে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের একাধিক নেতারা দলে থেকে বেসুরো গান গাইছেন। যা চলছে এখনও। ইতিমধ্যেই অনেকে গেরুয়া শিবিরে নামও লিখিয়েছেন। অনেকের মতি গতি নিয়ে বেশ সংশয়ও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলে এখনও এমন একাধিক নেতা রয়েছেন যারা যে কোনও মুহূর্তে হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে নিতে পারেন।

এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে এবারে তৃণমূলের দলীয় নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূলের নীচু তলাতেও কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে দিয়েছে। কর্মীরা প্রকাশ্যে দলের নেতাদের দিকে আঙ্গুল তুলতে শুরু করে দিয়েছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার ডাক দিয়ে এসেছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্ত তার কয়েকদিনের মধ্যেই কোচবিহারের পুর প্রশাসকের বিরুদ্ধে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষোভ জানালেন দলের নীচুতলার কর্মীরা। কোচবিহার (Kochbihar) পুরসভার পুর প্রশাসক ভূষণ সিংয়ের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটলো নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে।

আরো পড়ুন : মুসলিম ভোটারদের নিয়ে নিজেদের অঙ্ক পাল্টাচ্ছে বিজেপি

যদিও এই ক্ষোভের পিছনে দলের গোষ্ঠীকোন্দল কাজ করছে বলে স্থানীয় নেতৃত্বের একটা অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, কর্মীদের ওই সমস্ত ক্ষোভকে থোড়াই পাত্তা না দিয়ে ভূষণ সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা পদত্যাগ চাইছেন তারা কেউ পদ দেননি। পদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে একমাত্র নেত্রী বললেই তিনি পদ ছাড়বেন। আর এহেন ঘটনা ফের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলে কোন্দল আজ কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। কেউ কাউকে পাত্তা দিতে নারাজ। দলের অন্দরে একাধিক গোষ্ঠীর সংঘাত আজ বহু এলাকায় চরমে উঠেছে। ফলে একুশের নির্বাচনের আগে এই কোন্দল সামাল দেওয়ার দায় হয়ে উঠেছে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে।

দলীয় নেতৃত্ব যতোই বার্তা দিন না কেন, যতোই বৈঠক পরিকল্পনা করা হোক না কেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের অন্দরে সমস্যা যেন বাড়ছেই। সামান্য পান থেকে চুন খসলেই দলের সিকি আধুলী মাপের নেতারাও আজ দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝাপি খুলে নিয়ে বসছেন। দলত্যাগী না হলেও দলের অন্দরে থেকে যদি এভাবে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বিক্ষোভের পারদ চড়তে থাকে তাহলে একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপি তার পূর্ণ ফায়দা লুঠে নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায়ের পর শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় অনেকেই আজ সাহস ভরে দলে থেকে দলের দিকেই আঙ্গুল তুলছেন অনায়াসে। কার্যত দলীয় শৃঙ্খলার রাশ যেন ভেঙে পড়েছে। একমাত্র নেত্রী ছাড়া যেন কেউ কাউকেই মানতে নারাজ। এমন একটা আবহের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগঠনে কামব্যাক করা তৃণমূলের সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ।