আরও ঘণীভূত সুশান্ত মৃত্যু রহস্য, তদন্তে তৎপর সিবিআই

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

সুশান্ত সিং রাজপুতের বন্ধু সিদ্ধার্থ পিঠানি, পরিচারক নীরজ সিং এবং দীপেশ সবন্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুশান্তের অ্যাকাউন্ট্যান্ট রজত মেবতীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই আধিকারিকরা।
আর এবার, সুশান্ত মামলায় রিয়া চক্রবর্তীকে শীঘ্রই তলব করা হবে বলে সিবিআই সূত্রে খবর।

প্রসঙ্গত, রিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া এবং সুশান্তের টাকা তছরুপ করার অভিযোগে পটনায় এফআইআর দায়ের করেন সুশান্তের বাবা কে কে সিং। সেই মামলারই তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।

অন্যদিকে, সিবিআই-এর তদন্ত শুরু করার পর থেকেই ক্রমশ ঘণীভূত হচ্ছে সুশান্ত মৃত্যু রহস্য।

প্রসঙ্গত, সুশান্তের মৃত্যুর ছদিন আগে ৮ই জুন মৃত্যু হয় সুশান্ত সিংহ রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের। মুম্বই পুলিশ এবং দিশার পরিবার সূত্রে জানা যায় বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন দিশা। দিশা ও সুশান্তের মৃত্যুর কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা নিয়ে যখন চর্চা চলছে তখনই সামনে এল আরও একটি সত্য।

বিশেষ সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে যে, দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর নদিন পরও ৯ই জুন থেকে ১৭ই জুন পর্যন্ত চালু ছিল দিশার ফোন। এবং আরও জানা গিয়েছে যে, দিশার ফোন থেকে একাধিক ইন্টারনেট কলও করা হয়েছে।এখন দিশার মৃত্যুর পরেও কে বা কারা দিশার নম্বর থেকে ফোন করল সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এর আগে আমরা জানি যে, সুশান্তের বান্দ্রার কার্টার রোডের অ্যাপার্টমেন্টে পুনঃনির্মাণ করা হয় ক্রাইম সিন। জানা যাচ্ছে, সুশান্ত কি আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাঁকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুশান্তের ঘরের খাট এবং ফ্যানের মধ্যেকার দূরত্ব কতটা ছিল। এই সব বিষয়গুলি জানার জন্যই পুনঃনির্মাণ করা হয় ক্রাইম সিন।

প্রাথমিকভাবে সিবিআই সূত্রে খবর, এই পুনঃনির্মাণের পর প্রশ্ন উঠছে মাত্র এক ইঞ্চির ব্যবধানে কি আদৌ ফাঁস লাগানো সম্ভব? সিবিআই সূত্র বলছে, সম্ভব।তবে, সিবিআই সূত্রে খবর, সুশান্ত নিজেই ফাঁস লাগিয়েছিলেন নাকি তাকে অচেতন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল ? তা এমস-এর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দলটির সুশান্তের ভিসেরা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই পরিষ্কার হবে।

অন্যদিকে, আরও জানা যাচ্ছে যে, সুশান্তের দেহ থেকে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার মাত্র আর কুড়ি শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশই নিজেদের তদন্তের স্বার্থে ব্যবহার করেছে মুম্বই পুলিশ। তাই, সিবিআই সূত্রে খবর, আপাতত তাতে হাত দিচ্ছে না সিবিআই।