মোদীর রবীন্দ্রভক্তি!বাংলার মসনদ চায় গেরুয়া শিবির..

1 min read


।। রাজীব ঘোষ ।।

বিজেপির পাখির চোখ রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা। সেই লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্ব সকলেই ময়দানে নেমে পড়েছেন। বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অবাঙ্গালীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় দল। সেই অভিযোগ নস্যাৎ করার জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া শুরু হয়েছে। বাঙ্গালীদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

খেলনা শিল্পে আত্মনির্ভর ভারতের উপরে জোর দিতে গিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ তুলে এনে বোঝাতে চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বদেশী খেলনার কথাই বলেছেন। মোদি বলেছেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন সেরা খেলনা হলো সেটাই যেটা অসম্পূর্ণ শিশুরা খেলতে খেলতে তা সম্পূর্ণ করবে। গুরুদেব বলেছিলেন উনি যখন ছোট ছিলেন তখন নিজের কল্পনায় ঘরের জিনিসপত্র দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিজের খেলনা এবং খেলা তৈরি করতেন। এর আগে বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্র তিরোধান দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতি রবীন্দ্র ভাবাশ্রিত বলেই দাবি করেন।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কি রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা মুখস্থ রয়েছে? দেশের মানুষ জানতে চায় করোনার মোকাবিলা পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরাহা অর্থনীতির সংকটের সমাধানের জন্য কি করেছেন? ইতিহাসবিদ সুগত বসু তার এই রবীন্দ্র উদ্ধৃতির মধ্যে সুবিধাবাদ দেখছেন। তার কথায় বাংলায় ২০২১ এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই এত ঘনঘন রবীন্দ্র উদ্ধৃতি। মোদির মুখে রবীন্দ্রবাণী না শুনে তরুণদের নিজে পড়ে রবীন্দ্রনাথকে বোঝা উচিত।

তবে ইতিহাসবিদরা মোদির রবীন্দ্র ভজনা প্রসঙ্গে বলেন নিজেকে তাদের আদর্শের ধারক বাহক প্রতিপন্ন করতে চান। মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা আরো বিপজ্জনক। মোদির রবি স্মরণ দেখে প্রশ্ন উঠছে বারবার এত রবি প্রেম কেন প্রকাশ পাচ্ছে মোদির। আগামী বছরে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই কি কবি গুরুর চরণ ধরতে চাইছেন তিনি। মোদির এই অনুষ্ঠানের ভিডিও লাইকের থেকে ডিসলাইক পড়ল অনেক বেশি। মন কি বাত অনুষ্ঠানের ভিডিওটি ইউটিউব এ আপলোড করা হয়। তারপর দেখা গিয়েছে ভিডিওটি লাইক করেছেন প্রায় ২৯ হাজার মানুষ এবং ডিসলাইক করেছেন প্রায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ।

তবে করোনা আবহে নিট জেইই এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পড়ুয়ারা পছন্দ করছেন না বলে মনে করা হচ্ছে। তারাই মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ভিডিওটি ডিসলাইক করছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী করোনার সময়ে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সংযমের সঙ্গে গণেশ চতুর্থীর মত উৎসব পালনের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পরীক্ষা বা অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি যাননি। তাই সংকটে পড়ে কি রবীন্দ্র স্মরণ প্রশ্নটিই উঠতে শুরু করেছে।