Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মুসলিম ভোটে হাতের বাইরে চলে গেছে বলে মমতা খোঁচা মোদীর

।। প্রথম কলকাতা ।।

আপাতদৃষ্টিতে দেখলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার কোচবিহারে জনসভা করতে এসে একটিও সাম্প্রদায়িক কথা বলেননি। উল্টে তাঁর মুখে সম্প্রতির সুর শোনা গিয়েছে। কিন্তু এটা পরিষ্কার তিনি যে আঙ্গিকে বিষয়টি উপস্থাপনা করেছেন, তাতে ধর্মীয় মেরুকরণ স্পষ্ট হয়েছে। এদিন কী বলেছেন তিনি? প্রধানমন্ত্রী জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ” দিদি আপনার ধারণা ছিল সমস্ত মুসলিমরা আপনার সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু তাঁরাও আজ আপনার পাশে নেই। হাতের বাইরে চলে গিয়েছেন তাঁরা। ” সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ” আমরা কিন্তু সমস্ত হিন্দুকে একজোট হতে বলছি না।

যদি বলতাম তাহলে নির্বাচন কমিশন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। গোটা দেশের সংবাদ মাধ্যম আমাদের বিরুদ্ধে লিখত। সম্পাদকীয় পাতায় বিজেপির বিরুদ্ধে লেখা হতো। আমাদের দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কমিশন ব্যবস্থা নিত। কিন্তু আপনার দলের বিরুদ্ধে এমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কিনা আমি জানি না”। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিজেপি চায় সবার বিকাশ। মূলত এভাবেই তিনি ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রধানমন্ত্রী সুকৌশলে বোঝাতে চেয়েছেন, রাজ্যের ৭০ শতাংশ হিন্দু একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তৃণমূল।

সরাসরি তিনি সেই আবেদন না করলেও, বিষয়টি সূপ্ত ভাবে সেখানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরক্ষণেই মোদি বলেছেন, ” দিদি আপনি হারছেন। এই ইভিএম দশ বছর আগে আপনাকে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন আপনি নির্বাচন কমিশন এবং ইভিএমকে গালাগালি করছেন। যাদের ভরসায় এতদিন ভোটে জিতেছিলেন, তাঁরা পাশ থেকে সরে গিয়েছেন। তাই এটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে, আপনি হেরে যাচ্ছেন দিদি”।

আরো পড়ুন : ‘গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এত খুন হয়নি নির্বাচন কমিশন কি করছে?’প্রশ্ন একটাই মমতার

অন্ধ সমর্থকরা যে কোনও অবস্থায় নিজের প্রিয় দলকেই ভোট দেবেন। কিন্তু ভোটারদের একটা অংশ সেই দলকে ভোট দিতে চান, যে দলটি নির্বাচনে জিততে চলেছে বলে তাঁরা মনে করছেন। সেই দলকে ভোট দিয়ে থাকেন তাঁরা। তাই দেখা গিয়েছে প্রথম দফার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ৩০টির মধ্যে বিজেপি জিততে চলেছে ২৬টি আসনে।

দ্বিতীয় দফার পরে একইভাবে তাঁরা এই দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় দফার নির্বাচনের দিন কোচবিহারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের দাবিকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে গেলেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে থাকলেন, তৃণমূল হারছে, বিজেপি আসছে। এটা যে প্রধানমন্ত্রীর একটা মাস্টারস্ট্রোক, সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।