Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাড়ছে গ্রাহক, লেনদেনে সিংহভাগই নিষ্ক্রিয়!

1 min read

||এইচ এম আবির, সিলেট ব্যুরো||

মোবাইল ব্যাংকিং হল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাযুক্ত একটি সেবা। এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোন একটি অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের যেকোন আর্থিক লেনদেন একটি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

১৯৯৯ সালে মোবাইল ওয়াপ পদ্ধতির মাধ্যমে স্মার্ট ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইউরোপীয়ান ব্যাংকে চালু করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার।

বর্তমানে বাংলাদেশে খুব সহজে এবং দ্রুত টাকা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পাঠানোর এই মাধ্যম এখন অনেকেই পছন্দ করছেন। ২০১০ সালে ডাচ-বাংলা ব্যাংক দেশে সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করলেও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

এদিকে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন সময়ে গ্রাহকের কাছে মোবাইলের লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

লেনদেন সহজ বলে দিন দিন বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা। কিন্তু বেশিরভাগ গ্রাহক নিবন্ধন করে কোনো রকম লেনদেন করছেন না। আর এ কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে অসংখ্য হিসাব। এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের নভেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার। যা তার আগের মাস অক্টোবরে ছিল ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিক বাড়লেও সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা উল্টো কমেছে। টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

[ আরো পড়ুন :বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে পড়ুন এ লেখাটি ]

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ওষুধ ক্রয়ের কোনো ধরনের চার্জ না কাটার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি হতে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনে (যেকোনো চ্যানেলে) এ নির্দেশনা মানতে হবে। একইসঙ্গে লেনদেন সীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া দৈনিক এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট সম্পূর্ণ চার্জবিহীন রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগে যেখানে দিনে ২ বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যেতো। এখন তা বাড়িয়ে দিনে ৫ বার সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যাবে এবং মাসে ২৫ বারে করতে পারবে ২ লাখ টাকা। আর দিনে ৫ বার সর্বোচ্চ ক্যাশআউট করা যাবে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে ২০ বার দেড় লাখ টাকা ক্যাশআউট করা যাবে। পাশাপাশি একজন গ্রাহক তার ব্যক্তি মোবাইল হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা স্থিতি রাখতে পারবেন।