Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মিম জুজু ভয় রাজনৈতিক দলে!

1 min read

।।শর্মিলা মিত্র।।

মিম বা এআইএমআইএম। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে একটু হলেও চমকে দিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে, সবাইকে চমকে দিয়ে তার মধ্যে ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে মিম।

আর এবার ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের একটাই নিশানা। তার মধ্য বারবারই ঘুরেফিরে আসছে মিমের নাম।

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্যের পর বাংলা বিধানসভা ভোটেও মিম প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা করেছেন আসাউদ্দিন ওয়াসি। আর তাতেই শিয়রে সংক্রান্তি দেখছে শাসক-বিরোধী, সব পক্ষই।

সত্যিই কী মিম কে জুজুর মত ভয় পাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি ? নাহলে মিমকে নিয়ে কেন উত্তাল হচ্ছে বাংলার রাজ্য রাজনীতি।

বিহারের নির্বাচনে সাফল্যের পর এ বার পাখির চোখ এ রাজ্যের ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আগামী মাসে মালদহে আসার কথা মিম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসির।

তার প্রস্তুতি হিসেবে মালদার চাঁচলে সভা করেন মিমের স্থানীয় নেতৃত্ব। সেই সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়।

পাশাপাশি মিমের দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের ‘বঞ্চনার’ কথা তুলে ধরে সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তবে অন্যদিকে, তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তার জন্য কেউই সংখ্যালঘুদের ভুল বোঝাতে পারবে না।

এদিনের, চাঁচলের খানপুরে ওই সভায় জেলা নেতা তথা আইনজীবী হুমায়ুন মিয়াঁ ও শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল সরকার নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি।

তৃণমূল ও বিজেপিকে মুদ্রার এ পিঠ এবং ও পিঠ বলেও প্রকাশ্য সভায় কটাক্ষ করা হয়। পাশাপাশি, লোক দেখানো ইফতার পার্টি করে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করেছে তৃণমূল বলেও অভিযোগ তোলা হয় ওই সভা থেকে। আরও অভিযোগ করা হয় যে, বঞ্চনা নিয়ে সরব হতেই মিমকে মুসলিম মৌলবাদী দল, উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া, ওই সভা থেকে মিমের জেলা আহ্বায়ক মতিউর রহমান বলেন, ‘মোদিজি দেশ বিক্রি করছেন। অন্য দিকে, বিজেপির জুজু দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের বোকা বানিয়ে ভোট লুঠ করছে তৃণমূল। সংখ্যালঘুরা এ সব বুঝতে পেরেই তাদের দিকে ঝুঁকছেন’ বলেও মন্তব্য করেন মতিউর রহমান। পাশাপাশি,

এ সবই জেলা জুড়ে প্রচারে তুলে ধরা হবে বলেও ওই সভায় জানান তিনি।

যদিও, ‘মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের জন্য যা করেছেন তা কেউই করতে পারবেন না। মিম যাতে সংখ্যালঘু মানুষদের ভুল বোঝাতে না পারে’ সেটা তারা দেখবেন বলে জানিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মুশারফ হোসেন।

তবে, মুখে বললেও, বিহারের নির্বাচনের কথা ভুলতে পারছেনা কোন রাজনৈতিক দলই। সেখানে পাঁচটি আসন পাওয়ার পাশাপাশি ভোট ভাগের খেলায় আখেরে যে লাভ হয়েছিল নীতিশ সরকারের তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

তাই, মালদা জেলায় মিম যে ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে তাতে তৃণমূলের পাশাপাশি খানিকটা উদ্বেগে রয়েছে কংগ্রেস ও বামেরাও। কারণ, সংখ্যালঘু ভোটের একটা অংশ এখনও বাম ও কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে রয়েছে।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফিরদৌস এই বিষয়ে বলেন, তিনি আশা করেন প্রকৃত কোনও বামপন্থী ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। তবু তাদের সজাগ থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, মালতীপুরের কংগ্রেস বিধায়ক আলবেরুনি জুলকারনাইন বলেন, ‘‘বিজেপিকে সুবিধে পাইয়ে দিতেই ওরা শুধু সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে।’’
পাশাপাশি, ‘বিজেপি সংখ্যালঘুদের জন্যও অনেক কিছুই করেছে।’ ফলে তাদের অন্য কারও সুবিধে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন।

এছাড়া, মিম জুজু এতই ঘাড়ে চেপে বসেছে যে, কদিন আগেই সাংবাদিক বৈঠকে মিম-কে কড়া সুরে আক্রমণ করতেও দেখা যায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। ‘সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি-ই মিমের লক্ষ্য’ বলেও তোপ দাগেন অধীর চৌধুরী।

তাই সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কোথাও হলেও মিমের ছায়ায় খানিকটা হলেও উদ্বেগে রয়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি, তা বলাই যায়।

পিসি/