মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নেই কোরবানির প্রস্তুতি, নেই কোনো সাড়া শব্দ

1 min read

।। মনির ফয়সাল (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) বাংলাদেশ।।

করোনায় বদলে গিয়েছে পুরো চিত্র। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি ঈদুল আজহা। তবে প্রতি বছরের এই ঈদের চিত্র আর এবারের চিত্র যেন আকাশ পাতাল তফাৎ। নেই কোনো উচ্ছ্বাস। নেই কোনো প্রস্তুতি। যেখানে ঈদুল ফিতরের পরপরই অনেক ঘরে চলে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি। চলে নানা জল্পনা কল্পনা। কিন্তু এবারে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা নেই। প্রতিবছর কোরবানি করতো এমন অনেক পরিবারে নেই কোনো সাড়া শব্দ। নেই কোরবানির প্রস্তুতি। তাই এবারের ঈদ নিয়ে কি ভাবছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির সেসব মানুষ?

এবারের কোরবানি নিয়ে কথা হয় শহরের কিছু স্থানীয় ও অস্থায়ী বাসিন্দার সাথে। যারা প্রতি বছরই পালন করতেন ঈদুল আজহা। এদের মধ্যে কোরবানি পালন করা প্রায় ৯০ ভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারেই এবার নেই কোন প্রস্তুতি। কারণ বৈশ্বিক এ মহামারীতে অনেকেই চাকরি হারা অবস্থায় আছেন। দীর্ঘদিন বেকার হয়ে থাকায় জমানো টাকা ভেঙে খেয়েছেন তারা। অনেকে কোরবানির ঈদ পালন করতে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের কাছে ছুটে যান। এবারে তাও পারছেন না অনেকে।

কুমিল্লার বাসিন্দা মো. আবু সুফিয়ান বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে এক নামেই কোরবানি করতাম। বাবা চলে যাওয়ার পরে আমরা তিন ভাই আলাদা হয়ে যাই। পরবর্তীতে তিন ভাই মিলে ভাগে একটা গরু কোরবারি করতাম। আমার এক ভাই দেশের বাইরে থাকে, একজন ঢাকায় চাকরি করে আর আমি চট্টগ্রামে চাকরি করি। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের তিন ভাইয়েরই কাজ বন্ধ। যে সৌদিআরবে থাকে তারও দীর্ঘদিন কাজ নেই। এবার তিনিও কোরবানি করতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর দুই ঈদেই বাড়িতে যাই। দুই ভাইয়ের পরিবার রয়েছে গ্রামে। আত্মীয়-স্বজন সবাই রয়েছে। সবার সাথে ঈদ পালন করতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এবারে রমজানের ঈদেও বাড়ি যেতে পারিনি আর এখনতো যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কারণ হাতে টাকা নেই। কোরবান করতে পারছি না নিজের কাছে লজ্জাও লাগছে। এখন ঘর ভাড়া দিয়ে যেখানে খেয়েপড়ে বাঁচা দায় হয়ে গেছে, সেখানে হাজার বিশেক টাকা দিয়ে কোরবানি করার কথা আপাতত ভাবছি না।

এদিকে সাগরিকা বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, কোরবানির গরু-ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু বিক্রি করার জন্য বিক্রেতারা আসলেও ক্রেতা নেই। ফলে কোরবানির আমেজ নেই বললেই চলে। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির হাট বসানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন থাকতে হবে। তা না হলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না।

তিনি আরো বলেন, গত এক বছর ধরে কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছোট-বড় খামারি থেকে শুরু করে ব্যক্তি উদ্যোক্তরা। লালনপালন করেছেন শত শত কোরবানির পশু। চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সাগরিকা বাজারে গরু আসে। মানুষ কাঁচা বাজারে যাচ্ছে। সেখানে নিজেকে রক্ষা করে বাজার করছেন। গরুর বাজারেও নিশ্চয়ই তারা একইভাবে সচেতন থাকবেন।