উইকএন্ডে বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা হোক মৌসুনি দ্বীপ

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

বেড়াতে যেতে কার না ভালো লাগে ? আর উইকএন্ডে ছুটি কাটানোর তো মজাই আলাদা। সারা সপ্তাহের কাজের পর, সপ্তাহান্তে ছুটি কাটাতে যাওয়াই যায় কাছেপিঠের কোনও সমুদ্র সৈকতে। এরকমই একটি কাছেপিঠে ঘুরতে যাওয়ার সমুদ্র সৈকতের ঠিকানা হল মৌসুনি দ্বীপ। মৌসুনি দ্বীপে পৌঁছে অচেনা বঙ্গোপসাগরকে দেখে উৎফুল্ল হয়ে যাবে আপনার মন।

সমুদ্রের পাড় ধরে একটু এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে ম্যানগ্রোভ অরণ্যে। মনোরম ম্যানগ্রোভের হাতছানি আপনাকে নিয়ে যাবে কোনও এক অচেনা অজানার উদ্দেশ্যে। চোখে পড়বে সমুদ্র তট জুড়ে লাল কাঁকড়ার আনাগোনা। প্রায় জনমানব শূণ্য এই দ্বীপে শুনতে পাবেন নানা পাখীর কলতানও।

র্যটকদের ভিড় তেমন চোখে পড়বে না। তবে, স্থানীয় মহিলাদের মাছ ধরা দেখে হয়তো একটু অবাকই হবেন। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি রুটি-রুজির খোঁজে প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারাও দুপুরের খাবারের মেনুতে পেতেই পারেন স্থানীয় পুকুর থেকে ধরা টাটকা মাছের স্বাদ। স্থানীয় মহিলারা সবসময়ই প্রস্তুত থাকেন পর্যটকদের খাবার-দাবার রান্না করে দেওয়ার জন্য। ঘরোয়া ভাবে তৈরি করা এই রান্নার স্বাদ আপনাকে তৃপ্তি দেবে তা বলাই বাহুল্য।

মৌসুনি দ্বীপে যেতে গেলে শিয়ালদহ (দক্ষিণ) থেকে ধরতে হবে নামখানা লোকাল। নামখানা স্টেশনে থেকে মোটর ভ্যানে করে পৌঁছাতে হবে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর ঘাটে। সেখান থেকে নদীর পাড় ধরে টোটো করে পৌঁছে যেতে হবে দুর্গাপুর ঘাটে। সেখান থেকে নৌকো করে পৌঁছে যেতে হবে বাগডাঙ্গা ঘাটে। এই ঘাটই হল মৌসুনি দ্বীপের প্রবেশ পথ। বাগডাঙ্গা ঘাট থেকে টোটো বা মোটর ভ্যানে করে পৌঁছে যাওয়া যাবে মৌসুনি দ্বীপের সমুদ্রতটে। আর তারপরই চোখের সামনে ভেসে উঠবে দিগন্ত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই মৌসুনি দ্বীপ।

মৌসুনি দ্বীপের এই সমুদ্র বিচটির নাম বালিয়াড়া বিচ। জন কোলাহলের বাইরে এখানে পাবেন এক ভিন্ন অনুভূতি । তাই উইকএন্ডকে একটু অন্যরকমভাবে উপভোগ করতে গেলে পৌঁছে যেতেই হবে মৌসুনি দ্বীপের এই বালিয়াড়া বিচে। পশ্চিমবঙ্গের শেষতম বিন্দু জম্মুদ্বীপকেও দেখতে পাওয়া যায় এই বালিয়াড়া বিচ থেকে। দেখতে পাওয়া যায় সাগর দ্বীপকেও।

এম/বি