ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ বহু সেলেব সন্তান

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

বলিউডে স্বজনপোষণের ঘটনা খানিকটা হলেও সকলের সামনে এনে দিয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু।
কিন্তু তেমনই বহুলাংশে সুযোগ সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বহু সেলেব সন্তানরা তা বলাই যায়।

প্রথমেই আমরা বলতে পারি কুমার গৌরবের কথা। ‘লভ স্টোরি’ ছবি দিয়ে হাতে খড়ি হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেতা রাজেন্দ্র কুমারের ছেলে কুমার গৌরবের। ‘লভ স্টোরি’ ছবিটি ব্লকবাস্টার হওয়ার পরও ধীরে ধীরে বলিউড থেকে হারিয়ে যান কুমার গৌরব।

এরপর আসতে পারি যশ চোপড়ার ছেলে তথা আদিত্য চোপড়ার ভাই উদয় চোপড়ার কথায়। পরিবার থেকে যথেষ্ট সাহায্য পাওয়ার পরও ‘মোহব্বতে’ ছাড়া কোনও ছবিতেই তার অভিনয় সেই ভাবে দাগ কাটতে পারেনি দর্শকদের মনে।

অন্যদিকে, সাফল্যের নীরিখে বাবা জিতেন্দ্র এবং দিদি একতা কাপুরের ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেননি অভিনেতা তুষার কাপুর। তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘মুঝে কুছ কহেনা হ্যায়’ সফল হলেও তারপরে কিন্তু ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন জিতেন্দ্র পুত্র।

আমরা জানি, ইন্ডাস্ট্রিকে বহু ছবি উপহার দিয়েছেন প্রযোজক হ্যারি বাওয়েজা। কিন্তু তার ছেলে হরমন বাওয়েজার ভাগ্যে সর্বসাকুল্যে জুটেছে কয়েকটি মাত্র ছবি।
সেই ছবিগুলিও সেইভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি দর্শকদের মধ্যে।

অন্যদিকে, বাবার পথে পা রেখেছিলেন অভিনেতা ফিরোজ খানের ছেলে ফারদিন খানও। তার অভিনীত ‘প্যায়ার তুনে ক্যায়া কিয়া’, ‘ভূত’ এবং ‘জঙ্গল’ ছবিও সাফল্য এনে দিতে পারেনি তার কেরিয়ারে। বলিউড কার্যত খালি হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছে তাকে।

এবার কথা বলব এমন একজন সম্পর্কে যার বাবা তকমা পেয়েছিলেন এভারগ্রীনের।
তিনি হলেন দেব আনন্দ। কিন্তু বলিউডে কোনভাবেই সাফল্য পাননি দেব আনন্দ পুত্র সুনীল আনন্দ।প্রত্যাশাপূরণে ব্যর্থ হয়েছেন মহাক্ষয় তথা মিমো চক্রবর্তীও। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু মহাক্ষয়ের একটি ছবিও বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি।

অন্যদিকে, প্রথম ছবি ‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলী’ সাফল্যের মুখ দেখলেও দুই দাদার মতো বলিউডে রাজ করতে পারেননি রাজ কাপুর পুত্র রাজীব কাপুর।বলিউড কাঁপানো অভিনেতা আমজাদ খানের ছেলে শাহদাব খানও সেভাবে সাফল্য পায়নি বলিউডে। ১৯৯৬ সালে রানি মুখোপাধ্যায়ের বিপরীতে ‘রাজা কি আয়েগি বরাত’ ছবিতে আত্মপ্রকাশ করেও পরবর্তী সময়ে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যান তিনি।

বলিউডের হালে পানি পাননি অভিনেতা রাজ কুমারের ছেলে পুরু রাজকুমারও।১৯৯৬ সালে প্রথম অভিনয় করেন ‘বালব্রহ্মচারী’ ছবিতে। তিন বছর পরে ফিরে আসেন নেগেটিভ ভূমিকায়। কিন্তু তাও সাফল্য পাননি তিনিও।

সাফল্য পাননি আমির খানের ভাই ফয়সল খানও। শিশু শিল্পী হিসেবে ‘প্যায়ার কা মওসম’, ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ‘মদহোশ’ ছবিতে। সাফল্য তার কাছেও ধরা দেয়নি।

বলিউডে সাফল্যলাভ করোনা অভিনেত্রী কিরণ খেরের প্রথম পক্ষের সন্তান সিকন্দরও। তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘উডস্টক ভিলা’ প্রশংসা লাভ করলেও পরবর্তী ছবিতে দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারেনি তিনি।মোট আটটি ছবিতে অভিনয় করেও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করতে পারেননি
শেখর সুমনের ছেলে অধ্যয়ন।

অন্যদিকে, অভিনেতা মনোজকুমারের ছেলে কুণাল গোস্বামীও শৈশবেই তার বাবার ছবি ‘ক্রান্তি’ দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করলেওপরবর্তী সময়ে সফল হতে পারেননি বলিউডে।এখনও বলিউডে লব সিংহের পরিচয় শত্রুঘ্ন সিংহের ছেলে এবং সোনাক্ষী সিংহের ভাই হিসেবে। গত নবছরে দুটি ছবিতে
অভিনয় করলেও প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে, বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিনেতা সঞ্জয় খানের ছেলে জায়েদ খান এবং হেমা মালিনী-ধর্মেন্দ্র কন্যা এষা দেওল।

এম/বি