Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

মমতা মিথই হতে পারে গেমচেঞ্জার, বিজেপির কুকথায় অক্সিজেন তৃণমূলে!

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

২০১১ সাল। ফলাফল প্রকাশ হল বিধানসভা নির্বাচনের। ফল দেখে রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, অবশেষে তিনি পারলেন। তারপর প্রায় দশ বছর অতিক্রান্ত। সামনের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশ এখন বলছে পারলে একমাত্র তিনিই পারবেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই বিজেপি শিবির দাবি করছে, এখন থেকেই নাকি তৃণমূলের পরাজয়ের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছেন তাঁরা।

ঘটনাপ্রবাহ যেদিকে যাচ্ছে তাতে এটা পরিষ্কার যে জীবনের অন্যতম কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহল মনে করে এই অবস্থার জন্য অনেকটা দায়ী তিনিই। আবার এটাও সত্যি কথা যে, এই কঠিন লড়াইয়ে নেমে ম্যাচ ঘোরাতে সক্ষম একমাত্র মমতাই। যে বিশ্লেষণ বহু আগেই তুলে ধরেছিল প্রথম কলকাতা। বুধবার বাঁকুড়ার সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী’ বুঝিয়ে দিলেন তিনি ভরসা রাখছেন নিজের ক্যারিশমার ওপরেই।

অঙ্কটা বড্ড কঠিন। তৃণমূল সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝছে। বলতে দ্বিধা নেই সেই সোজা অঙ্কটা কিন্তু নেত্রী নিজেই কঠিন করে ফেলেছেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রফুল্ল ঘোষ। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন প্রফুল্ল সেন, বিধানচন্দ্র রায়, অজয় মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এরপরেই নাম আসবে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তাঁকে বাদ দিলে অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে একটা মিল আছে। সেটা হল দলীয় নেতাদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা।

মমতার পূর্বসূরীদের ক্ষেত্রে একজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ কেউ কোনো দিন করতে পারেননি। কিন্তু বর্তমান তৃণমূল সরকারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় যে আর্থিক অভিযোগ উঠেছে তাতে কিন্তু পস্তাতে হয়েছে জোড়াফুল শিবিরকে। অভিযোগ ওঠা আর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। তবুও তৃণমূলের এক অংশের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা কিন্তু উড়িয়ে দিতে পারছেন না তৃণমূলের বহু অন্ধ সমর্থকও। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূল বিরোধী দলগুলি এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। বলাবাহুল্য এই ইস্যুতে তৃণমূল আজ বড় বিপন্ন।

রাজনৈতিক মহল মনে করে তৃণমূল নেত্রী যদি অভিযুক্ত নেতা-নেত্রীদের পরবর্তীকালে নির্বাচনের টিকিট না দিতেন, তাহলে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় থাকত। সেক্ষেত্রে তিনি জোর গলায় বলতে পারতেন দুর্নীতির সামান্যতম গন্ধ যেখানে রয়েছে, তার সঙ্গে তিনি আপস করে চলেন না। রাজ্যবাসী সকলেই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া কোনো তৃণমূল নেতানেত্রীর একটি নির্বাচনেও জয়ী হওয়ার হিম্মত নেই। তাই নেত্রী যদি সেকথা মাথায় রেখে অতীতে নির্বাচনে অভিযুক্তদের টিকিট না দিতেন, তাহলে তাঁর ক্ষতি নয়, অনেক বেশি লাভ হতো।

কিন্তু মমতা সেই পথে হাঁটেননি। এতে অবশ্যই তাঁর রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতির মেরামত করতে গিয়ে তিনি আজ বড় ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক বছরে তৃণমূল নেত্রী যে বেশ কয়েকটি ভুল স্টেপ ফেলেছেন তা পরিষ্কার। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল তৃণমূলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রকেটের গতিতে উত্থান পর্ব। হঠাৎ করে ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়ে অভিষেক মসৃণ সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তৃণমূলের বাকি অংশের সঙ্গে। এই বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায়। সাহস করে কেউ বলেন, আর বেশিরভাগ অংশ তা বলতে পারেন না।

এটা তৃণমূলের প্রভূত ক্ষতি করেছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলকে যে বিষয়গুলি দুর্বল করেছে তার মধ্যে অন্যতম হল কাটমানি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট ইস্যু। এর জেরে তৃণমূল দলের মধ্যে অসংখ্য গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে বিঁধছে কাটমানি, তোলাবাজি নিয়ে। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সেই অংশ গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতি রাগ, ক্ষোভ, বিদ্বেষ উগরে দিয়েছেন ভোটবাক্সে।

চলতি বছরের মে মাসে আমফান ঝড়ের পর ক্ষতিপূরণ নিয়ে যে পরিমাণ দুর্নীতি সামনে এসেছে, তাতে বিজেপি যে অনেকটাই বাড়তি সুবিধা পেয়ে গিয়েছে সামনের বিধানসভা নির্বাচনের পরিপেক্ষিতে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহল মনে করে প্রত্যেকটি দলেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হওয়া উচিত। কিন্তু তৃণমূলে সেটা হয়নি। সেখানে মমতার পরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে একটি জায়গাতেই। আর তাতেই ক্ষোভ বাড়ছে দলের মধ্যেই। ২০১১ সালে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পেছনে অন্যতম একটা ভূমিকা ছিল বাংলার বুদ্ধিজীবীদের। তখন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে যাদের নিয়মিত দেখা যেত তার সিংহভাগকে এখন কিন্তু আর দেখা যাচ্ছে না আগের মতো করে।

এর পাশাপাশি রাজ্যের ক্লাবগুলোকে বড় অংকের টাকা বিতরণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কেউ সমালোচনা করলেই তাঁর প্রতি খড়গহস্ত হওয়া প্রভৃতি বিষয় তৃণমূলকে দিন দিন আরো দুর্বল থেকে দুর্বলতর করেছে। এছাড়া তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রধান অভিযোগ যে, মুখ্যমন্ত্রী খালি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কথাই ভাবেন। এই ইস্যুতে খুল্লামখুল্লা প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। উদ্দেশ্য একটাই রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করে নিজেদের ঝুলিতে নিয়ে আসা। সংখ্যালঘু ভোটার প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

এখন প্রশ্ন মমতা তো একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিক। তিনি পুরো বিষয়টাই ভালো করে বোঝেন। তাহলে তিনি এতদিন ধরে কেন কোনো ব্যবস্থা নিলেন না এই ইস্যুতে? এই প্রশ্ন কিন্তু শুধু রাজনৈতিক মহলের নয়, গোটা রাজ্যবাসীর। তবে কি এখান থেকে বের হওয়ার আর কোনো উপায় নেই তৃণমূলের? এককথায় উত্তর হল উপায় আছে, কিন্তু তা বের করতে হবে স্বয়ং দলনেত্রীকেই। পারলে তিনি পারবেন তৃণমূলকে কার্যত হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে।

বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট বলছে বিজেপি রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছে। তাদের থামানো বেশ কঠিন ব্যাপার। কিন্তু তার মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষসহ কয়েকজন নেতা নেত্রীদের কুকথা বর্ষণ নিয়ে। কখনো রাজ্য সভাপতি নিজে, কখনো দলের অন্যতম নেতা সায়ন্তন বসু কখনো মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কু কথা বলার নিরিখে সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে দিলীপ ঘোষকে বলতে শোনা যায়, বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না, মেরে ঠ্যাং ভেঙে দেবো। এরপর আরো বাড়াবাড়ি করলে শ্মশানে যেতে হবে।

আবার সায়ন্তন বসু বলছেন পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেবো, কখনো তিনি আবার মুখ্যমন্ত্রীকে শাড়ি পরা হিটলার বলে সম্বোধন করছেন। উল্টোদিকে মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ধর্ষণ প্রসঙ্গে কুমন্তব্য করছেন। বাংলার মানুষ অতীতে দেখেছেন সিপিএম নেতাদের কুকথার জবাব কিভাবে দিয়েছিল রাজ্যবাসী। সেখানে বিমান বসু, অনিল বসু, বিনয় কোঙাররা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে যেসব কুকথা বলেছিলেন তার তীব্র প্রতিবাদ এসেছিল সব মহল থেকে। আর বলাবাহুল্য তার বিরাট প্রভাব পড়েছিল ভোটবাক্সে। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে আর পাঁচটা রাজ্যের তুলনা করা যায় না।

এখানকার মানুষ অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং চিন্তাশীল। তাই বিজেপি যদি মনে করে এখন থেকেই তারা ম্যাচ জিতে গিয়েছে, তাহলে কিন্তু তাদের বড় ভুল হবে। স্বয়ং বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যেভাবে কুকথা বলে চলেছেন, তা কিন্তু মেনে নিতে পারছেন না রাজ্যের বহু মানুষ। এই বিষয়টি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে অবশ্যই চিন্তায় রাখবে। এখন প্রশ্ন যেসব ভুল-ভ্রান্তির কথা উল্লেখ করা হল তা নেত্রী ভালো করেই জানেন। তাহলে তিনি নিজে কেন এগুলি নিয়ে ব্যবস্থা নিলেন না? বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, প্রথম রাতেই বিড়াল মারতে হয়।

তাহলে হয়ত আজ তৃণমূলকে এই অবস্থার মধ্যে পড়তে হতো না। তবে এটা সত্যি যে বর্তমান পরিস্থিতিতে একমাত্র মমতাই পারেন গেমচেঞ্জারের ভূমিকা পালন করতে। আর ইতিমধ্যেই তিনি সেই কাজে নেমে পড়েছেন বাঁকুড়া থেকে। গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের তিনটি জেলাতেই খারাপ ফল করেছে তৃণমূল। বাঁকুড়ার দুটি আসনেই তারা পরাজিত হয়েছে বিজেপির কাছে। তাই বুধবার বাঁকুড়ার সভা মঞ্চ থেকে মমতা ঘোষণা করেছেন এখন থেকে তিনি নিজেই রাজ্যের প্রতিটি জেলার পর্যবেক্ষক। আসলে যাদের ওপর ভরসা করে নেত্রী একের পর এক জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন,তার অনেকটাই বিফলে গিয়েছে। সংগঠন বলতে যা বোঝায় তা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে বিন্দুমাত্র ছিল না বলা যেতেই পারে।

শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদি ম্যাজিকের উপর নির্ভর করে ২০১৪ সালে বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়ে এখানে। পরবর্তীকালে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি রকেটের গতিতে এগিয়ে গিয়েছে। যার জেরে তৃণমূলের বহু নেতা-নেত্রী এখন থেকেই বিজেপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ায় নেমে পড়েছেন। দলের মধ্যে ক্রমশ বিক্ষুদ্ধের সংখ্যা বাড়ছে। তৃণমূলের মধ্যেই একে অপরকে আজ অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখছেন। এই অবস্থায় বিজেপির মতো একটা রেজিমেন্টেড দলের সঙ্গে লড়াই করা যে কতটা কঠিন, তা নেত্রী হাড়ে হাড়ে বোঝেন। তাই উপায় একটাই। আর বিলম্ব নয়। দলের হালটা আরো শক্ত করে ধরতে হবে মমতাকে। দলের মধ্যে যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তা সবার আগে দূর করতে হবে নেত্রীকে।

আরো পড়ুন : ছাড়লেন এইচআরবিসি চেয়ারম্যান পদ, পদক্ষেপ শুরু শুভেন্দুর!

তাই নেত্রী জোর গলায় বলছেন, আগামীদিনে রাজ্য জুড়ে প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনিই দলের পর্যবেক্ষক। তাই তাঁকে বাঁকুড়ার সভা থেকে বলতে শোনা গিয়েছে, আমি একটু ঢিলে দিয়েছিলাম। এবার দলটা দায়িত্ব নিয়ে দেখব। দলের কারা গোপনে কাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে, যোগাযোগ রাখছে সেদিকেও নজর থাকবে আমার। আসলে দুর্নীতি ইস্যুর পাশাপাশি তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায়ন যেভাবে বেড়েছে, তা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।মূলত সেই অংশের নেতা-নেত্রীরাই আজ গেরুয়া শিবির মুখী হয়ে উঠেছেন। তবে কি আগামীদিনে অভিষেককে সেভাবে ফোরফ্রন্টে আনবেন না নেত্রী? ইতিমধ্যেই কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। বিগত বেশ কয়েক মাসে ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আগের ভূমিকায় দেখা যায়নি। সম্প্রতিককালে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হচ্ছেন দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। এই বিষয়টি নিঃসন্দেহে খুবই ইঙ্গিতবাহী।

বৃত্তের কেন্দ্রের সঙ্গে পরিধির যে সম্পর্ক, সেই একইভাবে তৃণমূল কংগ্রেস আবির্ভাব লগ্ন থেকে আবর্তিত হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই তালটা কিছুটা হলেও যে কেটে গিয়েছে, তা নিজেই ভালো করে জানেন নেত্রী। মমতার সাধারণ আড়ম্বরহীন জীবনযাপন, আপসহীন সংগ্রাম, অত্যাচারিতের পাশে থাকা, বিপদে-আপদে লোকের কাছে ছুটে যাওয়া প্রভৃতি বিষয় তাঁকে এতদিন ধরে রাজনীতিতে ডিভিডেন্ড দিয়ে এসেছে। সেই ধারা সামনের বিধানসভা নির্বাচনেও মমতা কি ধরে রাখতে পারবেন? উত্তর মিলবে আগামীদিনেই।

মমতা আছেন মমতাতেই, রাজ্যবাসীর কাছে সেটা ফের প্রমাণ করতে হবে স্বয়ং নেত্রীকেই। খেলার মাঠে একটা কথা আছে, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, বাট ক্লাস ইজ ফরএভার। বাংলার রাজনীতিতে মমতার যে ক্লাস এর সঙ্গে পরিচিত তামাম রাজ্যবাসী, সেটা ফের তাঁকে ফিরিয়ে আনতে হবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে। অতীতের ঘটনা বলছে তৃণমূল নেত্রী’ বারবার কঠিন অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল মাত্র একটি আসনে জয়লাভ করে। সেবার শুধুমাত্র মমতা জিতেছিলেন দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে। পাঁচ বছর পর ২০০৯ সালে জোট সঙ্গী এসইউসিইই কে নিয়ে তৃণমূলের আসন সংখ্যা হয় ২০।

২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ছিল ত্রিশের নিচে। আর তার পাঁচ বছর পর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জয়লাভ করে রাজ্যে ক্ষমতায় চলে আসে। শুধুমাত্র মমতা-ম্যাজিকেই যে সেটা সম্ভব হয়েছিল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে বিজেপি উষ্ণ চায়ের কাপ ডিশসহ হাতে তুলে নিয়েছে। শুধু তাদের ঠোঁটের সঙ্গে কাপের দূরত্ব রয়েছে। মজার কথা হচ্ছে এই অবস্থা থেকেও কিন্তু অনেকে চূড়ান্ত সাফল্য পাননি অতীতে। তাই বাংলায় একটা কথা আছে, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। তাই বিজেপির এখনো চিন্তা থাকছে আগামী কয়েক মাস মমতার ভূমিকা নিয়ে। এই ক’টা মাস যে মমতার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এবারেও জিতে তিনি কি হ্যাটট্রিক করতে পারবেন, নাকি হারিয়ে যাবেন গেরুয়া শিবিরের স্রোতে? সময়ই এর উত্তর দেবে আগামী দিনে।