নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা মমতার

1 min read

।। রাজীব ঘোষ ।।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় সংগঠনের পরিবর্তন করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংগঠনিক রদবদল করলেও কেউ বাদ পড়েন নি। নির্বাচনের আগে প্রত্যেককেই কোথাও-না-কোথাও স্থান দিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। দলীয় কমিটির আকারে অনেকটাই বড় হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন। তবে ১৭ জনকে সহ সভাপতি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে নতুন মুখ হলেন রবি ঘোষ শংকর সিং তাপস রায়। ৮ জনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ১১ জনকে সচিব করা হয়েছে। ৫৮ জনকে রাজ্য কোর কমিটিতে রাখা হয়েছে। রাজ্য সমন্বয় কমিটিতে ২১ জন রয়েছেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রবীনদের সরিয়ে নবীনদের সংগঠনের বড় দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন মমতা। লক্ষ্মীরতন শুক্ল, মহুয়া মৈত্র, পার্থ প্রতিম রায়, শ্যামল সাঁতরা, দুলাল মূর্মূ, গুরুপদ টুডু সহ অন্যান্যরা।

তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের রদবদল করেছেন সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিতে সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শান্তা ছেত্রী রয়েছেন। তৃণমূলের জেলা সংগঠনে এবার একটি নতুন পদ তৈরী করেছেন মমতা। পদটি হল চেয়ারম্যান। উত্তর ২৪ পরগনার চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ কে, উত্তর কলকাতার চেয়ারম্যান করা হয়েছে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কে, দার্জিলিং জেলার চেয়ারম্যান করা হয়েছে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব কে।

নতুন এই পদ দিয়ে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা বলা যেতে পারে। দলের ক্ষমতা থাকবে জেলা সভাপতির হাতে। নতুন কমিটি গঠনের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পর্যবেক্ষক পদ আর রইল না। দলের রাজ্য স্তরের যে নেতারা বিভিন্ন জেলার পর্যবেক্ষক এর দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। এই পদক্ষেপ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসছে। অনেকের মতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিট দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং টিম পিকের হাতে রইল।

এর আগে দলীয় টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলার পর্যবেক্ষকরা প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করতেন। অনেক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু আসনে পর্যবেক্ষকদের পরামর্শ বা আপত্তি মেনে নিতেন। জেলা পর্যবেক্ষক না থাকায় দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সেন্ট্রালাইজড হয়ে গেল। রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে একটা জল্পনা চলছিল। জানা যাচ্ছিল বিজেপির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর যোগাযোগ রয়েছে।

যদিও শুভেন্দু অধিকারী নিজে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের উপর থেকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব কমানো হলো বলেই মনে করা হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনে জেলার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সফল ছিলেন তিনি। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে দলের অনেকের মতে লোকসভা ভোটের পর যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী পর্যবেক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি চাইছিলেন। ফিরহাদ হাকিম এর পক্ষে পুর দপ্তর এবং পৌরসভার সামলে নজর রাখা মুশকিল হচ্ছে। সেই কারণে পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া হল। দলের এত বড় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সেই অর্থে কোনো ক্ষমতা নেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাউকেই অখুশি করতে চাইছে না তৃণমূল। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।