Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

নীল বাড়িতে পদ্ম ফুটবে? বিজেপি সেরে ফেললো অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই দলবদলের পালা থেকে শুরু করে অন্যমাত্রা পাচ্ছে শাসক বিরোধী শিবিরের জনসভাও। একে অপরের দিকে তীর নিক্ষেপ করতে বাদ রাখছেন না কেউই।
অন্যদিকে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসনের হিসেব সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই, নীলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে কমপক্ষে ২০০ আসন বেঁধে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অন্যদিকে, নীলবাড়ি দখল করতে গেলে ছুঁতে হবে ১৪৮ ‘ম্যাজিক ফিগার’। সেই মত এবার নিজেদের শক্তি বুঝতে ‘অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা’ চালালো বিজেপি। দলের ‘অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা’ অনুযায়ী, জানা গিয়েছে, ‘টার্গেট’ থেকে খানিকটা দূরেই রয়েছে বিজেপি দল।

অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার খড়দহে দলের সভায় শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari) জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে ১২০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তাই ক্ষমতায় আসতে দরকার আর ৩০টির মতো আসন ম্যাজিক ফিগার অনুযায়ী। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের নেতাদের ২২টি আসনের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিলেন অমিত শাহ। শেষ পর্যন্ত ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। জানা যাচ্ছে এবার মূলত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিধানসভার লড়াইয়ে নামতে চলেছে বিজেপি। অন্যদিকে জান গিয়েছে, দলের ‘অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা’র হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়েও রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়েছে বিজেপি।

রাজ্য নেতাদের পাশাপাশি, বাংলায় আসা ভিন্‌রাজ্যের নেতাদেরও রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। সেই সব রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে যা অবস্থা, সেই অনুযায়ী ১৫০ থেকে ১৬০টি আসনে বিজেপি জয় পেতে পারে বলে মনে করছে দল বলে সূত্রের খবর। বিজেপির তরফে এর আগেই সাংগঠনিক ভাবে বাংলাকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নির্বাচন লড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সেই অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের সব জেলা নিয়ে উত্তরবঙ্গ জোন। সেখানে আসনের সংখ্যা ৫৪। দলের হিসেব অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ জোনে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন পেতে পারে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, পাহাড়ে বিমল গুরুং (Bimal Gurung)বিজেপির বিরোধিতা করবেন। ফলে সেক্ষেত্রে দার্জিলিং লোকসভা আসনের সাতটি আসনের মধ্যে দুটির বেশিতে জয় পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছে বিজেপি শিবির।

এছাড়া, আলিপুরদুয়ারের কালচিনি বিধানসভা এলাকাতেও গুরুংয়ের প্রভাব কাজ করবে বলেই মত গেরুয়া শিবিরের। তবে বিজেপির আশা, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় গুরুং-প্রভাব সে ভাবে কাজ করবে না। সদ্য নাগরাকাটার তৃণমূল বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বিজেপিতে যোগদান করার ফলে ওই আসনটি নিয়ে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। এর পর রয়েছে নবদ্বীপ জোন। আসন সংখ্যা ৬৩। এই জোনের মধ্যে পড়ছে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ। বিজেপির হিসেব অনুযায়ী, এই এলাকায় ২৫ থেকে ৩০টি আসন তারা পেতে পারেন। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের আশা, বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সব বিধানসভা আসনেই জয় পেতে পারেন তারা। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগর ও বারাসত লোকসভা এলাকা থেকে চারটি করে আসন পাওয়ার আশা করছে বিজেপি।

বিজেপির ‘অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা’ অনুযায়ী, লড়াই কঠিন হতে পারে দেগঙ্গা ও রাজারহাট-নিউটাউন আসনে। অন্যদিকে, বসিরহাট লোকসভা এলাকা থেকে একটি আসন পাওয়া যেতে পারে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। এর পাশাপাশি বিজেপির হিসেব, অর্জুন সিং-(Arjun Singh)-এর ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকা থেকে আমডাঙা ছাড়া বাকি ছটি আসনেই জয় পেতে পারে তারা। রাজ্যে বিজেপির শক্তিশালী এলাকা বলে পরিচিত রাঢ়বঙ্গ জোন। এই জোনে রয়েছে দুই বর্ধমান জেলা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূম জেলা মিলিয়ে ৫৭টি আসন। এখানকার বেশ কয়েকটি লোকসভা আসন গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে থাকায় বিজেপি আশাবাদী, ওই জোনে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন পেতে সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন তার।

আরো পড়ুন : রক্তাক্ত নির্বাচন হবে, আশঙ্কা রাজ্যপালের, ক্ষুব্ধ তৃণমূল

বস্তুত, রাঢ়বঙ্গ জোনের আসানসোল, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপর এবং পুরুলিয়া লোকসভা এলাকার সব আসনেই জয় পাওয়া যেতে পারে ধরে নিয়ে অঙ্ক কষছে বিজেপি। অন্যদিকে, দুই মেদিনীপুর ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, হাওড়া ও হুগলি জেলার আসনগুলি নিয়ে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক জোন মেদিনীপুর। সেখানে রয়েছে মোট ৬৯টি আসন। তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে গেরুয়া শিবিরের আশা এখান থেকে বড় সংখ্যায় আসন পাওয়া যেতে পারে। দলের অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৫ থেকে ৪০টি আসন আসবে এই জোন থেকে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের লোকসভা কেন্দ্র মেদিনীপুর ছাড়াও ঘাটালের আসনগুলিতে দল ভাল ফল করবে বলে মনে করেছে বিজেপি শিবির। এছাড়া, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, তমলুক মিলিয়ে আসতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন।

হাওড়া ‌জেলার আসনগুলি নিয়ে এখনও কিছুটা ধন্দ থাকলেও বিজেপির আশা, বড় সংখ্যায় আসন পাওয়া যেতে পারে হুগলি, আরামবাগ, ও শ্রীরামপুর লোকসভা এলাকা থেকেও। এবার আসা যাক কলকাতা জোনের বিষয়। যা কার্যত ‘তৃণমূলের দুর্গ’ বলে পরিচিত। বিজেপি-র এই সাংগঠনিক জোনে রয়েছে ৫১টি আসন। এই জেনে কলকাতার পাশাপাশি রয়েছে সম্পূর্ণ দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ। তবে, বিজেপি আশাবাদী, দলের পক্ষে যে ‘হাওয়া’ রয়েছে, তাতে এখানেও খাতা খোলা যাবে। সদ্য এই জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি একটা বড় সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল সভাপতিও ছিলেন।

সেই ভরসায় বিজেপির আশা, ১০ থেকে ১২টি আসন পাওয়া যেতে পারে এই এলাকায়। অন্যদিকে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে তা এখন থেকেই স্পষ্ট বলাই যায়। তাই রাজ্য বিজেপি সূত্র অনুযায়ী, বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান-অধ্যুষিত ৬০টির মতো আসন নিয়ে লড়াই শুরু করবে তৃণমূল। অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস জোট লড়াই শুরু করবে ১৫টির মতো আসন নিয়ে। সেই ক্ষেত্রে বিজেপি-র ‘সহজ লড়াই’ থাকবে ২২০টির মতো আসনে। তবে, এখনও সব হিসেব নিকেশ গুলিয়ে দিতে পারেন একজনই। তিনি জননেত্রী, দলনেত্রী, তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)।

কারন, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া তৈরি হলেও তা একাই থামিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। অন্যদিকে, ‘নারদা-কাণ্ড’ সামনে আসার আগেও নিজের ভাবমূর্তি দিয়ে দলের জয়কে পোক্ত করেছিলেন তিনি। আর তাই এই বিষয়টিও ও ভাবাচ্ছেনা গেরুয়া শিবিরকে তা বলা যায়না। এখনও সে ভাবে প্রচারে নামেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। তাই এ বারেও নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে ওঠার পরে তিনি কী স্ট্র্যাটেজি নেবেন, তা এখনও সকলেরই অজানা। অজানা পদ্ম শিবিরেরও। তবে অনেকের মতেই, তার কৌশল কিন্তু ওলট পালট করে দিতে পারে সব হিসেবেই।