Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

লুঠে বিশ্বাস করেন, ভোটে বিশ্বাস করেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তোপ অধীর চৌধুরীর

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই সক্রিয় হচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতা নেত্রীরা। জনসভা থেকে শুরু করে রোড শো বা মিছিল মানুষের প্লাবনে ভাসছেন শাসক থেকে বিরোধী উভয় পক্ষই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সব বিষয়েই নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন শাসক-বিরোধী সব দলের নেতা নেত্রীরাই। আজ মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। কৃষি আন্দোলনের বিষয় থেকে শুরু করে রাজ্যের ভোট ব্যবস্থা সবকিছুই উঠে এল অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury) সাংবাদিক বৈঠকে। নির্বাচনের বিষয় তিনি বলেন, ‘সারা পশ্চিমবঙ্গে ২০ হাজার আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল পন্চায়েত ভোটে জয়লাভ করেছিল। ৩৪ শতাংশ মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূল লুটেরাদের দল তারা লুঠ করেছে পন্চায়েত শুধু নয় তারা মিউনিসিপ্যালিটির ভোট লুঠ করেছে, এবাংলার মুখ্যমন্ত্রী লুঠে বিশ্বাস করেন, ভোটে বিশ্বাস করেন না, এবার তাকে বাংলার মানুষ শিক্ষা দেবে যে লুঠ করে নয়, ভোট লোপাটে নিয়ে ভোট ব্যালটে নিতে হবে।’

মন্তব্য অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury) পাশাপাশি তাকে কোণঠাসা বলা নিয়ে তার মন্তব্য, ‘অধীর চৌধুরীকে যদি কোনঠাসা বলা না হয়, তাহলে রাজনীতি কী করে হবে। অধীর চৌধুরী কোণঠাসা কী কোণঠাসা নয়, একবার আমাদের মিছিলগুলোতে নেমন্তন্ন করছি আসুন এসে দেখে যান কে কোণঠাসা হয়েছে।’ এছাড়া, গরু পাচার, কয়লা পাচার, বালি পাচারের বিষয় তার মন্তব্য ‘কে বাদ আছে, যদি তদন্ত হয় এ পশ্চিমবঙ্গে বহু পুলিশ অফিসারের জেল হবে তাহলে। এ মুর্শিদাবাদ জেলায় ছোট বড় মাঝারি সব পুলিশ অফিসার পয়সা খেয়েছে।’ তার দাবি, ‘SP, DM, SDPO, OC সবাই পয়সা খেয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা শুধু নয় সারা বাংলা জুড়ে গরু পাচার, কয়লা পাচার, বালি পাচার সেখানে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া হতে পারে না, আর এই প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছে সরকারি দল। তাই সরকারি দলের নেতা মন্ত্রী, পুলিশের অফিসার পুলিশের নীচুতলার অফিসার সব মিলেমিশে পুলিশ আর পার্টি মিলেমিশে গরু পাচার হয়েছে, বালি পাচার হয়েছে, কয়লা পাচার হয়েছে।’

তার আরও মন্তব্য, ‘মুর্শিদাবাদ জেলার আবাল বৃদ্ধ বনিতা জানে যে মুর্শিদাবাদ জেলায় পুলিশ এবং পার্টি মিলেমিশে গরু পাচার করে থাকে। সঙ্গে BSF তারা জড়িত Customes তারা জড়িত বলেও অতএব কেন্দ্র ও রাজ্যের অনেক সংস্থা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে। BSF, Police, Party, Customes সঙ্গে সরকারি দলের নেতারা যুক্ত রয়েছে’ বলে মন্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury)। পাশাপাশি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে তার মন্তব্য, ‘ভারতবর্ষের যে সরকারে আছে তারা এটাকে সম্মানের বিষয় করে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে কৃষকরা ধীরে ধীরে পরিশ্রান্ত হয়ে যাক ক্লান্ত হয়ে যাক তারা নিজেরা নিজেরা পথ ছেড়ে দেবে। সরকার তার নিজের জিদ্দি থেকে তার নিজের জেদের জন্য তাদের নিজেদের অকারন অহঙ্কার দম্ভ এই সরকারকে কোন সমাধানে আসতে দিচ্ছেনা। সরকার সমাধান চাইছেনা তারা মনে করছে সমাধান যদি হয়ে যায় তাহলে মোদি সরকারের মাথা নীচু হয়ে যাবে, মোদি সরকারের অসম্মান হবে।’

আরো পড়ুন : অতীতের বিবাদ ভুলে দুজনে এক মঞ্চে, রোগ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়ার দাওয়াই

পাশাপাশি তিনি জানান, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছেন জমি অধিগ্রহণ আইন ভারতবর্ষের পার্লামেন্টে পাশ হওয়ার পরও বাতিল তো হয়েছে প্রত্যাহার হয়েছে তো জমি আইন প্রত্যাহার হতে পারে তখন কৃষি আইন প্রত্যাহার করলে কী হবে ?’ বলে প্রশ্ন অধীর চৌধুরীর। পাশাপাশি বিজেপি সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আজকে যারা ভারতবর্ষের ক্ষমতায় এসেছে তাদের রাজনীতির মূল ভাবধারা ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকরণ। শাসক দলের যদি মূল রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা হয় ধর্মীয় মেরুকরণ তাহলে তা সারা দেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে বলে তিনি বিশ্বাস করেন’ বলে জানান অধীর চৌধুরীর। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা পর কখনও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির প্রচলন ছিলনা।

আজ ক্রমশ সাম্প্রদায়িকতার নাগপাশে আমরা জড়িয়ে যাচ্ছি’ বলে মন্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury)। পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠকের প্রথমেই সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury) বলেন, তারা সবসময় সাংবাদিকদের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক আমাকে নিয়ে ভালো কথা লিখতে পারে, সাংবাদিক আমাকে নিয়ে খারাপ কথা লিখতে পারে, সাংবাদিক আমার প্রশংসা করতে পারে, সাংবাদিক আমার নিন্দাও করতে পারে, সাংবাদিকের সে অধিকার আছে, সে ছোট সাংবাদিক হতে পারে বড় সাংবাদিক হতে পারে, তার মাইনে দু টাকা হতে পারে তার মাইনে দু লাখ হতে পারে তার মাইনে দু কোটি হতে পারে প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। তাদেরকে অপমান করা তাদেরকে অগ্রাহ্য করা অবমাননা করা এটা ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের পরিপন্থী।’ বলেও নিজের মত প্রকাশ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর (Adhit Choudhury)।