শচীন দেববর্মনের জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর জীবন

।। শুভশ্রী মুহুরী ।। কলকাতা।।

বাংলা ও হিন্দি গানের জগতের অন্যতম নক্ষত্র শচীন দেববর্মন। কয়েক দশক ধরে গানের ঝুলি সমৃদ্ধ করেছিলেন তাঁর গানে। ১৯০৬ সালের পয়লা অক্টোবর কুমিল্লায় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজবংশে জন্মেছিলেন ছিলেন শচীন দেববর্মন। ছোট থেকেই বেড়ে উঠেছিলেন সঙ্গীতের আবহে। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন তাঁর বন্ধু। ভোরকীর্তন,নগরকীর্তন, কবিগানের পালা থেকে প্রায়ই শোনা যেত নজরুল ও শচীন দেবের গান।

১৯২৫ সালে সংগীত চর্চার জন্য কুমিল্লা ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়।
.১৯২৩ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার সুযোগ পান। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফেরেন্সে গান গেয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন। ঠুমরী সঙ্গীত পরিবেশন করে ওস্তাদ ফৈয়াজ খানকেও মুগ্ধ করেছিলেন। বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে ১৯৩৭ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র রাজগীতে সংগীত পরিচালনার কাজ করেন।

তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একশোরও বেশী গানে সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি।১৯৩৭ সালে শচীন দেববর্মন বিয়ে করেন তাঁর ছাত্রী মীরা ধর অর্থাৎ মীরা দেববর্মনকে। মীরা দেবী ছিলেন শচীন দেববর্মনের আদর্শ সহধর্মিনী এবং একজন দক্ষ গীতিকার। বিয়ের পর শচীন দেব বর্মন মীরা দেবীর লেখা একাধিক গানে সুর দেন। সেই গানগুলির মধ্যে ব্যপক জনপ্রিয়তা পায় “শোন গো দখিন হাওয়া”, “বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে”, “বিরহ বড় ভালো লাগে” গানগুলি।

শচীন দেববর্মন এবং মীরা দেববর্মনের পুত্র রাহুল দেববর্মনও গানের জগতে সুনাম রাখেন।বিখ্যাত এই গায়ক এবং সঙ্গীতশিল্পীর ১৯৭৫ সালে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়। পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৩১শে অক্টোবর তিনি প্রয়াত হন। একাধিক সম্মানে ভূষিত করা হয় শচীন দেববর্মনকে। দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার, দুটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড এবং ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাব দেওয়া হয় তাঁকে। গানের জগতের চিরউজ্জ্বল নক্ষত্রকে তাঁর জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য।