ফিরে দেখা গান্ধী জয়ন্তীর ইতিহাস

1 min read

।।শুভশ্রী মুহুরী।। কলকাতা।।

“দে দি হামে আজাদি বিনা খড়গ, বিনা ঢাল// সাবরমতী কি সন্ত তুনে কর দিয়া কামাল” হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে গান্ধীজীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে এই গানটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায়। হেমন্ত কুমারের পরিচালনায় গানটি গান আশা ভোসলে। নিতান্তই লিরিক্স হিসেবে নয়, গানটির প্রতিটি বাক্য আজও গান্ধী সমর্থকদের ধ্যানে জ্ঞানে। দশকের পর দশক, যখনই দেশের কোথাও হিংসা মাথা চারা দিয়ে উঠেছে তখনই স্মরণে এসেছেন গান্ধীজী।

তিনি চলে গিয়েছেন ঠিকই কিন্তু রাজনীতির পরতে পরতে লিখে গিয়েছেন নিজের নাম, প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন গান্ধীজীর স্বাধীন চিন্তাধারা। প্রতি বছর ২রা অক্টোবর সারা দেশজুড়ে পালিত গান্ধী জয়ন্তী। আজ ফিরে দেখবো এই দিনটির ইতিহাস।১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাতের পোরবন্দরে জন্ম গ্রহন করেছিলেন গান্ধীজি, অর্থাৎ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহন করলেও জাত-পাত, শ্রেণী বিভাজনের সংকীর্নতা তাঁকে ছুঁতে পারেনি।

বরং অস্পৃশ্যতার ভাবনা দূর করে তিনি বিশ্ববাসীর মনে উদার চিন্তাভাবনা প্রতিষ্ঠা করে যেতে চেয়েছিলেন। গান্ধীজী স্বাধীনতা আন্দোলনকে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। আবেগ নয়, ধৈর্য ও বুদ্ধিকেই হাতিয়ার করেছিলেন সংগ্রামে।দক্ষিন আফ্রিকায় তখন ভারতীয় নাগরিকদের উপর চলছে ব্রিটিশি অত্যাচার। ভারতীয় জওয়ান সংগ্রামীরা তখন ব্রিটিশদের দমনে নানা উপায় খুঁজছেন। এমন সময় গান্ধীজি ডাক দিলেন অহিংস শান্তিপূর্ন নাগরিক আন্দোলনের।

অনেকের সমর্থন না পেলেও কিছু মানুষ হিংসা ছেড়ে হাত ধরেছিলেন অহিংসার। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গান্ধীজীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের সত্যাগ্রহ আন্দোলন থেকে ১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন, সারা বিশ্ব সাক্ষী থাকে এক অভিনব আন্দোলনের। ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে তাঁর নাম লেখা হয় দক্ষ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হিসেবে ।

১৯৪৮ সালে ৩০শে জানুয়ারি দিল্লির বিড়লা হাউজের প্রাঙ্গনে গান্ধিজিকে হত্যা করেন নাথুরাম গডসে। এরপর থেকেই ২রা অক্টোবর দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা হয়। এবং এই বিশেষ দিনটিকে গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে উদযাপন করা হয়। গান্ধীজীর সমাধি স্থান নতুন দিল্লির রাজ ঘাটে তাঁর উদ্দ্যেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। গান্ধীজীর ভক্তরা গেয়ে ওঠেন তাঁর প্রিয় ভজন “রঘুপতি রাঘব রাজা রাম, পতিত পাবম সীতা রাম..”