লন্ডনের সিলেটি ‘দ্য চিকেন ম্যান’

।। সিলেট ব্যুরো ।।

বাবা ইশাক আহমেদ ছিলেন সিলেটের শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতা। ছেলে দেশের রাজনীতিতে পরিচিত হননি; তবে নিজেকে ‘অন্যভাবে’ চিনিয়েছেন লন্ডনের গ্লোস্টার শহরে গিয়ে। সেখানকার ট্রেডওয়ার্থ এলাকায় উন্মোচন করেছেন ফ্রাইড চিকেন ব্যবসার নতুন দিগন্ত। শামসুজ্জামান লিটু গ্লোস্টারে এখন ‘দ্য চিকেন ম্যান’ নামে পরিচিত। সেখানকার ছেলেমেয়েরা তাকে এই নামে ডাকে।

স্থানীয় গণমাধ্যম গ্লোস্টারশায়ার লাইভেও লিটুকে এই নামে পরিচয় করানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী লিটুই গ্লোস্টারে প্রথম ফ্রাইড চিকেনের ব্যবসা শুরু করেন। গ্লোস্টারে বসবাস করা বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ, যারা স্থানীয় জীবনযাপনের উন্নতিতে অবদান রাখছেন তাদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এই সংবাদমাধ্যমটি। লিটুকে নিয়ে লেখা ফিচার থেকে জানা গেছে, তিনি সেই কিশোর বয়সে লন্ডনে যান।

শহরটিতে ব্যবসা শুরু করেন ১৭ বছর আগে। ইউনিভার্সিটি অব গ্লৌচেস্টারশায়ার থেকে পড়াশোনা শেষ করে কাজিন আব্দুল রশিদকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নামেন। ‘বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বসবাস এই ট্রেডওয়ার্থে। তারা দ্রুত খাবার চায়,’ এই অঞ্চলে ব্যবসা শুরুর যুক্তি দিতে গিয়ে লিটু বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল এখানে নতুন কিছু কাজে দেবে।’ লিটু জানালেন স্থানীয় বাচ্চারা তাকে ভালোবেসে ‘দ্য চিকেন ম্যান’ নামে ডাকে, ‘অধিকাংশ বাচ্চা আমাকে এই নামে চেনে।

আরো পড়ুন : প্রকৃতির সৌন্দর্যের স্বর্গরাজ্য যেন এখানে!

বিশেষ করে রাস্তায় তারা এই নামেই ডাকে।’ কিছুটা অদ্ভুত এই নামে লিটুর এতটুকু আপত্তি নেই, ‘আমি এটা ভালোবাসি। কারণ তারা আমাকে সম্মান করে নামটি দিয়েছে।’ লিটুর মোট দুটি রেস্টুরেন্ট। ব্যবসা সামলে তিনি আবার ফুটবল দলও গঠন করেছেন। তরুণদের নিয়ে গড়া তার দলের নাম গ্রেট ব্রিটেন স্পোর্টস ক্লাব।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি কখনো সক্রিয় না হলেও জানালেন এই সত্ত্বা তার রক্তে, ‘বাবা সিলেটে বিএনপির রাজনীতি করতেন। আমি ব্রিটেন কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থক।’ দেশের জন্য টান থাকলেও গ্লোস্টারের সৌন্দর্যে লিটু রীতিমতো বিমোহিত, ‘এই শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। এর সৌন্দর্য তার কারণ। এখানকার মানুষেরা বন্ধুসুলভ। একে অপরকে সম্মান করে। জাস্ট বিউটিফুল।’