বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জীবন কেমন ছিল?

।। শুভশ্রী মুহুরী ।।

আগামীকাল মহালয়া। ১৯৩০ এর দশকে এই দিনেই অল ইন্ডিয়া রেডিও বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে উপস্থাপন করেন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। প্রথম বছরেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় অনুষ্ঠানটি। মহালয়া এবং দুর্গাপুজোর কোনো সম্পর্ক না থাকলেও অনুষ্ঠানটির নাম হয়ে যায় মহালয়া। এবং এই দিন থেকেই বাঙালী জীবনে শুরু হয় দুর্গাপুজোর দিন গোনা। এই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জীবন নিয়ে কৌতুহল অনেক। আজ জেনে নিন তার জীবন সম্পর্কে নানান অজানা তথ্য।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জন্ম হয় ১৯০৫ সালের ৪ই আগস্ট আহিরীটোলায়। তাঁর পিতা ছিলেন রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ এবং মাতা ছিলেন সরলাবালা দেবী। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ছদ্মনাম ছিল বিরুপাক্ষ। তাঁর পিতা ছিলেন বহুভাষাবিদ। মোট ১৪ টি ভাষায় দক্ষতা ছিল কালীকৃষ্ণ বাবুর। সাহিত্য জগতেও নাম অর্জন করেন তিনি। বাবার ছত্রছায়ায় বড়ো হতে থাকেন ছোট বিরুপাক্ষ। ভালোবাসতেন আবৃত্তি করতে। ছোটবেলায় চিড়িয়াখানার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। সময় পেলেই চলে যেতেন সেখানে। বাগবাজারের রসগোল্লা ছিল তাঁর খুব প্রিয়। তবে অকপটে স্বীকার করতেন, মাছ ধরায় বা ঘুড়ি ওড়াতে তিনি একেবারেই পারতেন না।

সাহিত্যের প্রতি তাঁর ঝোঁক তৈরী হয় তাঁর পিতার থেকেই। সাহিত্যের পাশাপাশি পড়াশোনাতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না বিরুপাক্ষ বাবু। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ১৯২৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৮ সালে স্নাতক হন। এরপরেই শুরু করেন সংস্কৃত চর্চা। অল্প বয়স থেকেই শুরু করেন চন্ডীপাঠ পড়া। তাঁর কন্ঠের উদাত্ত মন ছুঁয়েছিল তৎকালীন অল ইন্ডিয়া রেডিও কর্তাদের।

তাঁকে নিয়েই তৈরী হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। ১৯৭৬ সালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ বাবুকে সরিয়ে আকাশবাণী কতৃপক্ষ স্তোত্র পাঠের জন্য অভিনেতা উত্তম কুমারকে নেন। সেই বছর রেডিওর জগত সাক্ষী থাকে একটি বিপ্লবের। বীরেন্দ্রবাবুকে সরানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রোতারা। শেষ পর্যন্ত আবার বীরেন্দ্রবাবুর কন্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনানো শুরু হয়।

শুধুমাত্র রেডিও নয় চলচ্চিত্রের প্রতিও তাঁর ঝোঁক ছিল বেশ। একই সাথে অভিনয়েও ছিলেন আগ্রহী। মেস নং ৪২ সহ একাধিক নাটক রচনা করেন তিনি নিজেই। বিমল মিত্রের সাহেব বিবি গোলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সুবর্ণ গোলক নাটক তিনি মঞ্চস্থ করেন। একাধিক গুণের অধিকারী বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর মারা যান।