Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ছাড়লেন এইচআরবিসি চেয়ারম্যান পদ, পদক্ষেপ শুরু শুভেন্দুর!

।। প্রথম কলকাতা ।।

জল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। বৃহস্পতিবার সেটা আরো নতুন রূপ নিল। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান কান্ডারী শুভেন্দু অধিকারী এদিন এইচআরবিসি এর চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। আর শুভেন্দুর জায়গায় এদিনই সেই পদে এলেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে যে অসম্ভব তাৎপর্যপূর্ণ তা নতুন করে বলে বোঝাবার কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবেই ওয়াকিবহাল মহল প্রশ্ন তুলছে, তবে কি শুভেন্দু তাঁর নয়া পদক্ষেপ শুরু করে দিলেন এভাবেই? তাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই কি শুভেন্দু যেসব দপ্তরের মন্ত্রী রয়েছেন সেগুলি থেকেও সরে দাঁড়াবেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

সবচেয়ে বড় কথা তৃণমূল কংগ্রেস এদিন শুভেন্দুর ছেড়ে দেওয়া পদে বসিয়েছে কল্যাণকে। তাতে শুভেন্দুর দল ছাড়ার সম্ভাবনা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই হুগলির একটি সভামঞ্চ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুকে নাম না করে তীব্র আক্রমণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় শুভেন্দু কটি দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন, আর কিকি প্রশাসনিক পদ পেয়েছেন, তিনি কত টাকার সম্পত্তি করেছেন, তাঁর পরিবার কটা পেট্রোল পাম্পের মালিকানা পেয়েছে, তিনি কীভাবে বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছেন, এরকম বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দুকে। সেইসঙ্গে তাঁকে খোঁচা দিয়ে কল্যাণ বলেন,” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ না পেলে তো মিউনিসিপ্যালিটিতে দাঁড়িয়ে আলু বেচতিস”। তার কয়েকদিন পরেই হুগলি জেলার শেরপুরে একটি অরাজনৈতিক সভা থেকে পাল্টা কল্যাণকে নাম না করে নিশানা করেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন,”হুগলির প্রাক্তন সিপিএম নেতা তথা সাংসদ অনিল বসু যেভাবে কুকথা বলেছিলেন তা মানুষ গ্রহণ করেননি। আমাকে যা বলা হয়েছে সেই কথাগুলি নিয়ে আপনারা প্রতিবাদ করবেন না? যেভাবে আমার পরিবারকে নিয়ে কথা বলা হয়েছে তা কি আপনারা অনুমোদন করেন?”এভাবেই সেদিন শুভেন্দু মার্জিত বক্তব্যের মাধ্যমে কল্যাণকে নিশানা করেছিলেন হুগলির মাটিতে দাঁড়িয়েই। উল্লেখ্য বর্তমানে হুগলি জেলার দায়িত্বে রয়েছেন কল্যাণই। স্পষ্টত কল্যাণ এবং শুভেন্দুর মধ্যে বাগবিতণ্ডা অন্যমাত্রা যোগ করে রাজ্য রাজনীতিতে।

তাই শুভেন্দু যখন আজ হুগলি রিভার ব্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন, আর সেখানে কল্যাণকে নিয়ে আসা যে বিশেষ ইঙ্গিতবাহী তা পরিষ্কার। তবে কি তৃণমূল নেতৃত্ব এভাবেই শুভেন্দুকে চরম বার্তা দিয়ে দিলেন? দল তবে কি মনে করছে শুভেন্দুকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে মূল স্রোতে ফিরে আসার ব্যাপারে? দলের তরফে বহুবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে বৈঠকের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু তার কোনোটাই এখনো পর্যন্ত কাজে আসেনি। এমন নানা বিষয় কিন্তু ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল এদিন শুভেন্দুর পদ ছাড়া ও সেই পদে কল্যাণকে দ্রুত নিয়ে আসার মাধ্যমে।

শুভেন্দু অধিকারী যে এদিনই এমন একটি পদক্ষেপ করবেন তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। বর্তমানে যে কয়টি দপ্তরের মন্ত্রী রয়েছেন সেগুলির দায়িত্ব তিনি এবার ছাড়বেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অনুগামী জেলা পরিষদের মৎস্য বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খান বিজেপিতে যোগদান করেছেন। যা অসম্ভব ইঙ্গিতবাহী ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে। তাই আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের ফের বৈঠক হয় কিনা সে দিকে অবশ্যই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। আর সেই বৈঠকের আগেই শুভেন্দু কোনো চরম ঘোষণা করে দেবেন কিনা তা নিয়েও যথারীতি আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।