Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

“অস্তিত্ব জানান দিতে ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার বাম-কংগ্রেস ব্রিগেড “

1 min read


।। সাগর দাশগুপ্ত ।।

বাম-কংগ্রেস জোটের কাজকর্ম পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার ব্রিগেড সমাবেশ ডাকছে বামফ্রন্ট। সঙ্গে অবশ্যই থাকছে শরিক কংগ্রেস। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের সর্ব স্তরের কর্মীদের অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি শক্তিপ্রদর্শন করতেই বড় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএম। সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বাকি আটটি শরিকদলও। সায় দিয়েছে কংগ্রেসও।প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে বা মার্চ মাসের প্রথম রবিবার সমাবেশ হবে। কিন্তু দিল্লি সূত্রে বামেরা জেনেছে, মার্চ মাসের গোড়াতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট জারি হয়ে যাবে। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ব্রিগেড সমাবেশ ডাকা হবে। তবে ওইদিনটি এখনও চূড়ান্ত সম্মতির অপেক্ষায়।সমাবেশের দিন নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গেও আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা জানান, ‘‘একুশের বিধানসভা ভোটের আগে যে বড় সমাবেশ হবে, তা আগেই ঠিক ছিল। কিন্তু নির্বাচনী সময়সূচির কথা মাথায় রেখে ব্রিগেড সমাবেশ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার করা হচ্ছে।’’ ব্রিগেড সমাবেশের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, ‘‘তৃণমূল এবং বিজেপি— দু’দলই চাইছে রাজ্যে স্পষ্ট মেরুকরণের ভোট হোক। তাতে তাদের দু’পক্ষেরই নির্বাচনী সুবিধা হবে। কিন্তু তেমন হলে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাসঙ্গিকতাই থাকবে না। তাই বড় সমাবেশ করে ফ্রন্টের ও কংগ্রেসের নীচুতলার কর্মীদের উভয় দলের তরফে বার্তা দিতে হবে যে, আমরাও এই দুই শক্তির বিকল্প হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছি। সেই বার্তা দেওয়ার জন্য ব্রিগেড সমাবেশই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ উপায়।’’

আরো পড়ুন :আবারও কী বিশ্বভারতীতে চড়ছে রাজনীতির পারদ ?

গত ৪ জানুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে ব্রিগেড সমাবেশে কংগ্রেসের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বারের ব্রিগেডের গুরুত্ব অনুভব করে রাজ্য কমিটির বৈঠকে ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। সিপিএম সূত্রে জানা যাচ্ছে, জাতীয় রাজনীতিতে ‘সম মনোভাবাপন্ন’ বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে ব্রিগেড সমাবেশে।
রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবের মত নেতারা ব্রিগেড সমাবেশে হাজির থাকতে পারেন।থাকতে পারেন অবিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।মূলত একদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেসের এই পরিকল্পনা। তবে এই সমাবেশ বামফ্রন্টের ব্যানারে ডাকা হলেও কংগ্রেস এখানে আমন্ত্রিত থাকবে। জোটের শক্তি প্রদর্শনের প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা হিসেবেই বাম-কংগ্রেস এই ব্রিগেড সমাবেশে নিজেদের শক্তি যাচাই করে নিতে চায় বলেই উভয় দলের নেতাদের বক্তব্য।