Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

ফের দেশজুড়ে বামেদের বনধ, কেন?

।। ময়ুখ বসু ।।

ফের ধর্মঘটের রাজনীতিতে পা বাড়ালো বামেরা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি সহ কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে বনধের ডাক দিলো তারা। একযোগে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখে তারা যে মেহনতী মানুষের দল তা আবারও প্রমাণ দিতে চাইছে বামেরা।

আগামী ২৬ নভেম্বর দেশজুড়ে বামেদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট হবে। সেই ধর্মঘটে সামিল হচ্ছে এই রাজ্যের হোসিয়ারি শ্রমিকরাও। বনধের সমর্থনে একটা জনমত খুব অস্পষ্ট করে হলেও মাথাচাড়া যে দিচ্ছে না তা হয়তো বলা ঠিক হবে না।

তবে স্বাভাবিকভাবেই দেশ যখন করোনা সংকটে জেরবার, দেশের অর্থনীতিতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খাচ্ছেন সাধারন মানুষ। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আরও একটা কর্মনাশা বনধকে ঘিরে অনেকে অবশ্য প্রশ্নও তুলেছেন।

জনগণের স্বার্থে এই বনধ হলেও বনধের জেরে আরও একটা দিন কর্মনাশা হয়ে উঠতে চলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বনধের কারণে ছন্দ হারাবে স্বাভাবিক জনজীবন। ক্ষতি হবে খেটে খাওয়া মানুষের। তাহলে কেন বামেদের ডাকা এই বনধ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসলে জাতীয় বা রাজ্য রাজনীতিতে বামেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এটাই সবথেকে সহজ পন্থা।

মানুষের পাশে থেকে বনধের রাজনীতি খুব সহজেই নিজেদের লড়াই আন্দোলনের বার্তাকে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া সম্ভব। যে কারনেই গত কয়েক বছরের রাজনীতির প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, বছরে দুই একবার এই ধরনের বনধ বামেদের রুটিন মাফিক আন্দোলনের হাতিয়ার।

সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সাফল্যের পর দেশজুড়ে সম্ভবত বামেদের গতিময়তার গ্রাফকে মেপে ঝালিয়ে নিতে চাইছেন বামপন্থীরা। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের নিত্য জীবনের বিষয়গুলি নিয়ে ডাকা এই বনধে একটা শ্রেণীর মানুষের সমর্থন থাকবে।

তাছাড়া যে ইস্যুর উপর দাঁড়িয়ে এই বনধ সেই ইস্যুর চুড়ান্ত বিরোধিতা করতে চাইবে না সহজে কোনও রাজনৈতিক দল। ফলে খুব সহজের নিজেদের লড়াই ও আন্দোলনের বার্তা দিয়ে মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিকে দেশজুড়ে কায়েম করতে চাইছে বামপন্থীরা।

পিসি/