Prothom Kolkata

Popular Bangla News Website

কর্মীদের নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছেন নেতারা, ঔদ্ধত্য দেখাবেন না, সুর বদলাচ্ছেন রাজীব?

1 min read

।। প্রথম কলকাতা ।।

দলের এক শ্রেণির শীর্ষ নেতৃত্বকে নাম না করে ফের তোপ দাগলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajiv Banerjee) । এর আগে একাধিকবার বেসুরো কথা বলেন তিনি। যেগুলি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দু অধিকারীর পর তিনিও কি তাহলে দল ছাড়তে চলেছেন? এই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে রাজ্য রাজনীতিতে। এরপর তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Perth Chatterjee) সঙ্গে দু-দুবার বৈঠক করেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে যে কোনো সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি,তা বোঝা গেল নতুন বছরের শুরুতেই।

রবিবার রাজীবের বিধানসভা কেন্দ্র ডোমজুড়ে একটি রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেই অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজীব বলেন,” বেশ কিছুদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি কর্মীদের নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছেন কিছু নেতা। বাজারে এদের দেখা যাচ্ছে। কর্মীদের তাঁরা ব্যবহার করেন শুধু। কাছে গেলে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। তাঁদের বলছি, কর্মীদের চাকর-বাকর ভাববেন না। এত অহংকার আর ঔদ্ধত্য নিয়ে চলবেন না। এভাবে কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। একটা সময় কর্মীদের দ্বারাই আপনারা ক্ষমতাচ্যুত হবেন। কর্মীরা আপনাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে”।

আরো পড়ুন : “আমি ওকে বলি সাদা হাতি”কাকে বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বলাবাহুল্য রাজীবের এমন বক্তব্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই তিনি কেন বেসুরো হলেন, সেটা নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। তবে কি শুভেন্দুর পথ ধরে তিনিও এবার বিজেপিমুখী? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে নতুন করে। উল্লেখ্য হাওড়া জেলা রাজনীতিতে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যয়ের। অরূপ রায় বর্তমানে হাওড়া (Howrah) জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান। তিনি বিষয়টি নিয়ে বলেন,’ কোন নেতা কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন সেটা আমি জানি না। সেটা তিনি জানতে পারেন।

আমার সামনে কর্মীদের সঙ্গে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে আমি তাঁদের তিরস্কার করি। বিষয়টি নিয়ে দল নিশ্চয়ই তাঁর সঙ্গে কথা বলবে”। তবে এ ব্যাপারে তিনি যে রাজীববাবুর সঙ্গে কথা বলতে চান না, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত। এই অবস্থায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rajiv Banerjee) মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা দল ছাড়লে তৃণমূলকে যে প্রবল অস্বস্তির মধ্যে ফের পড়তে হবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তৃণমূল রাজীবের বক্তব্য নিয়ে আগামী দিনে কি পদক্ষেপ করে সেটাই এখন দেখার। এর পাশাপাশি রাজীবের নিশানা তৃণমূলের কোন কোন নেতার দিকে, সেটা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।