আবারও প্রশ্নের মুখে কলকাতা-লন্ডন উড়ান

1 min read

।। শর্মিলা মিত্র ।।

লকডাউন পরবর্তী সময়ে নিয়ম বিধি মেনে সপ্তাহে দুদিন শুরু হয়েছে কলকাতা-লন্ডন উড়ান। কিন্তু এবার আবারও যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় অনিশ্চিত হতে চলেছে কলকাতা-লন্ডন উড়ান। জানা গিয়েছে, যাত্রী সংখ্যা এতই কম যে, জ্বালানির খরচটুকুও উঠছে না। আর সেই কারনেই সংশয় দেখা দিয়েছে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি উড়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিমান সংস্থার মতে, ঠিকভাবে বিমান পরিষেবা চালাতে হলে সাধারণ শ্রেণীর পাশাপাশি বিজনেস শ্রেণির আসনেও পর্যাপ্ত যাত্রী প্রয়োজন হয়।

না হলে উড়ান চালানোর খরচ তোলাটা মুশকিল হয়ে পড়ে। আর কলকাতা-লন্ডন উড়ানের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে আবারও উঠে আসছে সেই পুরনো যুক্তি। কলকাতা থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় যাওয়ার বিজনেস শ্রেণীর যাত্রী পাওয়া যায়না। ঠিক এই যুক্তি দেখিয়েই এক সময়ে কলকাতা-ফ্রাঙ্কফুর্ট উড়ান তুলে নিয়েছিল জার্মান সংস্থা লুফৎহানসা। সরাসরি লন্ডনের উড়ানও তুলে নিয়েছিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।

আর এবার আবারও সেই সমস্যারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এখন, কলকাতা থেকে সপ্তাহে দুদিন লন্ডনের উড়ান যাতায়াত করছে। প্রতি বুধবার লন্ডন থেকে মধ্যরাতে কলকাতায় আসছে, আবার বৃহস্পতিবার ভোরে লন্ডন ফিরে যাচ্ছে। আবার শনিবার মধ্যরাতে এসে নামছে কলকাতা বিমানবন্দরে। রবিবার ভোরে ফিরে যাচ্ছে লন্ডন। কিন্তু কলকাতা থেকে লন্ডনে যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় নভেম্বর থেকে সপ্তাহে এক দিন করে ওই উড়ান চলবে বলে এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে খবর। এক দিন করে ওই উড়ান শনিবার মধ্যরাতে এসে কলকাতা বিমানবন্দরে নামবে, রবিবার ভোরে আবার ফিরে যাবে লন্ডন।

আরো পড়ুন : কমছে গরমের দাপট , শীতের অপেক্ষায় বঙ্গবাসী

জানা গিয়েছে, এই মূহুর্তে আটটি শহর থেকে সরাসরি লন্ডনে ‘বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ বিমান চালাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। ওই বিমানে ২১৮টি সাধারণ শ্রেণীর এবং ১৮টি বিজনেস শ্রেণীর আসন রয়েছে । কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে খবর, গত চার দিনে লন্ডন থেকে কলকাতায় এসেছেন যথাক্রমে ২৫ জন, ১২৫ জন, ৭৮ জন এবং ৯২ জন। কলকাতা থেকে যথাক্রমে গিয়েছেন ৪৭ জন, ৬০ জন, ৩৫ জন এবং ৪৭ জন। কিছুদিন আগে কলকাতা-লন্ডন উড়ানের যাত্রীসংখ্যা বাড়াবার লক্ষ্যে উড়ানে ওঠার আগে ‘কোভিড নেগেটিভ’ শংসাপত্র নিয়ে ওঠার বিষয়েও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাজ্য সরকার।

লন্ডন থেকে ওই শংসাপত্র জোগাড় করা মুশকিল হচ্ছিল সেই কারনে যাত্রীসংখ্যা কম হচ্ছিল ভেবে, লন্ডনের উড়ানের জন্য নিয়ম পরিবর্তন করে রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, কারও সঙ্গে ওই শংসাপত্র না থাকলেও তিনি আসতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কলকাতায় নেমে পরীক্ষা করিয়ে নিলেই হবে। গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সেই নিয়ম। কিন্তু তারপরও কলকাতায় যে দুটি উড়ান এসেছে, তাতে যথাক্রমে ৭৮জন এবং ৯২ জন যাত্রী এসেছেন। অর্থাৎ, মোট আসনের ৩৩ এবং ৩৮ শতাংশ। পাশাপাশি, শুধু আসার নয়, কলকাতা থেকে লন্ডন যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যাও কম।

নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনে নামলে ১৪ দিনের জন্য গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। কলকাতা থেকে যেতে চাওয়া অধিকাংশ যাত্রীরই লন্ডনে ১৪ দিন গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকার মতো জায়গা নেই। হোটেলে থাকতে গেলে প্রচুর খরচ। সেটিও যাত্রী সংখ্যা কম হওয়ার একটি কারন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, উড়ান সংস্থা সূত্রে খবর, দিল্লি ও মুম্বই থেকে লন্ডনের যে সরাসরি উড়ান চলছে, তাতে গড়ে যাত্রী যাতায়াত করছেন ৭২ থেকে ৭৫ শতাংশ। তাই, সব মিলিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতা-লন্ডন উড়ান।

Categories